জিএসটি ট্রাইব্যুনাল থেকে চা-শিল্পের প্যাকেজ! শিলিগুড়িতে শিল্পমহলের মুখোমুখি অর্থমন্ত্রী

আগামী ২২ জুন রাজ্য সরকারের বাজেট পেশের আগে রাজ্যের শিল্প ও বণিকমহলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে তৎপর নতুন সরকার। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় আয়োজিত হলো এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রি-বাজেট বৈঠক’। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের শিল্প মানচিত্রের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শিল্পমহলের প্রধান দাবিগুলো কী? এদিনের বৈঠকে আইসিসি (ICC), ফোসিন (FOCIN) ও চা শিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো তুলে ধরেন:

  • জিএসটি আপিল ট্রাইব্যুনাল: ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে শিলিগুড়িতে একটি নিজস্ব জিএসটি আপিল ট্রাইব্যুনাল তৈরির জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

  • চা-শিল্পের সংকট: রুগ্ন চা-বাগান পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ প্যাকেজ এবং লিজ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের প্রস্তাব দিয়েছে টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া।

  • অন্যান্য: দার্জিলিং চায়ের মান রক্ষা এবং নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধার দাবিও উঠেছে।

অর্থমন্ত্রীর বার্তা বৈঠক শেষে স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘বিজনেস ফ্রেন্ডলি’ সরকার হিসেবে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, “আগে বাজেট তৈরি হতো ট্রেডমিলের মতো, যা আমরা এবার করছি না। সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে আমরা প্রতিটি দাবি মন দিয়ে শুনেছি।” তিনি আরও জোর দেন যে, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিবাদ ভুলে সমন্বয় বজায় রাখাই হবে উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

উত্তরবঙ্গের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক? কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার পর, আগামী সপ্তাহে দুর্গাপুরেও একই ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সরকার ‘দুয়ারে প্রশাসনিক পরিষেবা’র মতো বিষয়গুলোকে শিল্পের ক্ষেত্রেও কার্যকর করতে চাইছে। চা-শিল্পের মতো মেরুদণ্ডস্বরূপ শিল্পকে চাঙ্গা করতে সরকার বিশেষ প্যাকেজের ইঙ্গিত দিলেও, বাজেটে তার প্রতিফলন কতটা ঘটে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে উত্তরবঙ্গবাসী।

এই বৈঠক কি সত্যিই উত্তরবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাতে পারবে? উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের এই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা কি বাজেটে পূর্ণ হবে? সেই অপেক্ষায় এখন শিলিগুড়ির বাণিজ্য মহল।