‘ঝুকেগা নেহি’ থেকে পুলিশি হেফাজতে! ফলতার প্রাক্তন দাপুটে নেতা জাহাঙ্গিরকে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ

একসময় যাঁর হুঙ্কারে কেঁপে উঠত ফলতা ও সরারহাট এলাকা, সেই তৃণমূলের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খানের এখন দিন কাটছে পুলিশের হেফাজতে। ভোটের আগে নিজেকে সিনেমার ‘পুষ্পা’র সঙ্গে তুলনা করে যিনি বলেছিলেন, “ঝুকেগা নেহি”, সেই নেতাকেই এখন পুলিশের কড়া নজরদারিতে হাফ প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিয়ে রাস্তায় ঘুরতে দেখা গেল। বৃহস্পতিবার এই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘ঘটনার পুনর্নির্মাণ’ (Re-enactment) করা হয়।

পুষ্পা হুঙ্কার থেকে গ্রেপ্তার: নির্বাচনের ঠিক আগে যখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখন স্থানীয় পুলিশ পর্যবেক্ষককে উদ্দেশ্য করে জাহাঙ্গির বলেছিলেন, “উনি নিজেকে সিংহ মনে করলে আমরা পুষ্পা, ঝুকেগা নেহি।” সেই জাহাঙ্গিরই রাজ্যে পালাবদলের ঠিক আগে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার পুনর্নির্মাণ: বৃহস্পতিবার ফলতা থানার আইসি পার্থসারথি ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশি কনভয় জাহাঙ্গিরকে সরারহাটের রাস্তায় নামায়। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ধূসর টি-শার্ট ও কালো হাফ প্যান্ট পরা জাহাঙ্গিরকে পুলিশ সদস্যরা হাত ধরে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে নিয়ে যাচ্ছেন। তোলাবাজি, মারধর ও ভয় দেখানোসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলার তথ্য সংগ্রহের জন্যই পুলিশ এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।

কারচুপির বিতর্ক: গত ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন ফলতায় ব্যাপক কারচুপি এবং রাস্তা আটকে ভোটারদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল জাহাঙ্গির ও তাঁর সহযোগী ইসরাফিল চকদারের বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশন ভোট বাতিল ঘোষণা করে। এরপর গত ২১ মে পুনর্নির্বাচন হয়। কিন্তু তার আগেই জাহাঙ্গির এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হুমকির একাধিক মামলা চলছে।

এক সময় যাঁর ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না, আজ তাঁর এই অবস্থা দেখে সাধারণ মানুষ যেন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। পুলিশি হেফাজতে এই ‘পুষ্পা’র দাপট যে পুরোপুরি স্তিমিত, তা এই ঘটনার পুনর্নির্মাণ থেকেই স্পষ্ট।