বাংলার শিল্প মানচিত্রে নতুন ইতিহাস! সাঁকরাইলে ৬৫০ কোটির বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানা গড়ছে আমূল

বাংলার শিল্প মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। হাওড়ার সাঁকরাইলে গড়ে উঠতে চলেছে আমূল-এর ‘বিশ্বের বৃহত্তম’ দই উৎপাদন কেন্দ্র। সূত্রের খবর, আগামী ১৪ জুন এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজ্যে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

প্রকল্পের বিশেষত্ব ও বিনিয়োগ:

  • বিনিয়োগ: এই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে আমূল।

  • উৎপাদন সক্ষমতা: কারখানাটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোগ্রাম দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে।

  • উৎপাদিত পণ্য: প্রথমে দই উৎপাদন শুরু হলেও, পরবর্তীতে মাখন, পনির ও লস্যি-সহ একাধিক দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করা হবে।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রভাব: গত সপ্তাহে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমূল-এর শীর্ষ কর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রকল্প রাজ্যে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি ও দুগ্ধ অর্থনীতির বিকাশে বড় ভূমিকা নেবে। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১৪টি জেলায় ১ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি মহিলা আমূলের সাথে যুক্ত আছেন। এই কারখানা চালু হলে সেই সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অমিত শাহের সফর ও রাজনৈতিক সমীকরণ: সাঁকরাইলের এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের শিলান্যাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর একই সাথে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার সুযোগ করে দেবে। শিল্প প্রকল্পের মঞ্চ থেকে শাহ সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং রাজ্যের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বার্তা দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতৃত্বেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বাংলার এই নতুন ঠিকানা শুধু কর্মসংস্থান নয়, বরং রাজ্যের অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার আনতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। এখন ১৪ জুনের দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।