‘কাজ নেই’ অজুহাতে পার পাওয়া যাবে না! সন্তানদের দায়িত্ব নিয়ে হাইকোর্টের কড়া বার্তা

‘কাজ নেই’—এই এক অজুহাতেই সন্তানদের প্রতি আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না। একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনই কড়া অবস্থান নিল বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো আইনি অধিকার কোনো বাবার নেই।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
মহারাষ্ট্রের বুলধানার বাসিন্দা এক ব্যক্তি নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। নিম্ন আদালত তাঁকে তাঁর দুই সন্তান—একটি ১০ বছরের ছেলে ও ৭ বছরের মেয়ের জন্য প্রতি মাসে মোট ৮ হাজার টাকা (জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা) খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই ব্যক্তি হাইকোর্টে দাবি করেন, তিনি বর্তমানে বেকার এবং তাঁর উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম—একটি অটো—বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই এই টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাঁর নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:
বম্বে হাইকোর্ট ওই ব্যক্তির দাবিকে আমল দেয়নি। বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, সন্তানদের বড় করে তোলা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো বাবার ব্যক্তিগত ও আইনি—উভয় ধরনেরই কর্তব্য। বেকারত্ব বা নিম্ন আয়ের দোহাই দিয়ে এই দায়িত্ব থেকে পালানো যায় না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:

১০ এবং ৭ বছর বয়সি শিশুদের ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই অবহেলার বস্তু হতে পারে না।

পিতৃত্বের দায়িত্ব অস্বীকার করার কোনো সুযোগ আইনি ব্যবস্থায় নেই।

আদালত আরও উল্লেখ করে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিপূর্বে সন্তানদের জন্য ধার্য করা খোরপোশের টাকাও পরিশোধ করেননি, যা তাঁর দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়।

বার্তা:
হাইকোর্টের এই নির্দেশ আবারও প্রমাণ করল যে, পারিবারিক বিবাদ বা ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের অজুহাতে শিশুদের অধিকার খর্ব করা যাবে না। আদালতের এই রায় সেই সব বাবার জন্য একটি বড় বার্তা, যারা বিভিন্ন অজুহাতে সন্তানদের প্রতি খোরপোশের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।