যুক্তরাষ্ট্রের কপালে চিন্তার ভাঁজ! রুশ সেনার হাতে কি এবার ভারতের ব্রহ্মোস? বড় ইঙ্গিত দিলেন কর্তারা

প্রতিরক্ষা দুনিয়ায় আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ভারতের শক্তিশালী সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’। সেন্ট পিটার্সবার্গে চলমান ‘ফ্লিট ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স শো’-তে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের সহ-পরিচালক আলেকজান্ডার মাকসিচেভ এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মস্কো যদি অনুরোধ করে, তবে রুশ সামরিক বাহিনীকে ব্রহ্মোস মিসাইল সরবরাহ করতে প্রস্তুত এই রুশ-ভারতীয় যৌথ উদ্যোগ।

কেন এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ?
ব্রহ্মোস মিসাইলটি ভারত ও রাশিয়ার যৌথ প্রচেষ্টায় ডিআরডিও (DRDO) এবং রুশ সংস্থা ‘এনপিও মেশিনোস্ট্রোয়েনিয়া’-র দ্বারা তৈরি। বর্তমানে ভারতের স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনী এই মিসাইল ব্যবহার করলেও, আশ্চর্যজনকভাবে রাশিয়ার নিজস্ব অস্ত্রাগারে এর কোনো সংস্করণ নেই। ফলে আলেকজান্ডার মাকসিচেভের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

কী বললেন মাকসিচেভ?
রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ (TASS)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাকসিচেভ জানান, “আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা যথেষ্ট। রুশ সামরিক বাহিনী যদি নৌ বা স্থলবাহিনীর জন্য ব্রহ্মোস চায়, তবে আমরা তা দ্রুত সরবরাহ করতে পারব।” তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, এই পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

বিশ্বজুড়ে ব্রহ্মোসের চাহিদা
ব্রহ্মোসের গতি ও নির্ভুল নিশানায় আঘাত করার ক্ষমতা একে বিশ্বের অন্যতম সেরা সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলে পরিণত করেছে। শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ (ম্যাক ২.৮) বেগে ছুটে চলা এই মিসাইল গত বছর সীমান্তে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

প্রথম ক্রেতা ফিলিপাইন: ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ফিলিপাইন ইতিমধ্যে এই মিসাইলের দু’টি চালান হাতে পেয়েছে।

অন্যান্য দেশ: ফিলিপাইনের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামও ব্রহ্মোস কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা বিশ্ববাজারে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্যের প্রভাব প্রমাণ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কেন ধাক্কা?
রাশিয়া ও ভারত যৌথভাবে এই মিসাইল তৈরি করলেও, যুদ্ধের ময়দানে এর সরাসরি ব্যবহার এবং রাশিয়ার নিজস্ব সমরাস্ত্রের অংশ হিসেবে এর অন্তর্ভুক্তি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের তৈরি একটি অস্ত্র রাশিয়ার হাতে গেলে তা আন্তর্জাতিক সামরিক ভারসাম্যকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপাতত বল এখন রাশিয়ার কোর্টে। পুতিন সরকার যদি এই প্রস্তাবে সায় দেয়, তবে তা হতে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক।