যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশে জালিয়াতি! এইচএএল-এর বড়সড় পদক্ষেপ, নিষিদ্ধ সংস্থাটি

ভারতীয় বিমান বাহিনীর গর্বের লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (LCA) এমকে-১এ যুদ্ধবিমান প্রকল্প নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহের নামে জাল পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেওয়ার অভিযোগে হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ‘টিইসি অ্যারো ডিভাইসেস’-এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)।
ঠিক কী ঘটেছিল?
২০২২ সালের মার্চ মাসে এইচএএল-এর এয়ারক্রাফট ডিভিশন এলসিএ এমকে-১এ প্রকল্পের জন্য টিইসি অ্যারো ডিভাইসেসকে ১৮টি ক্রয়াদেশ দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, কোম্পানিটির নথিপত্র ও নমুনা যাচাই করার পর ১৭২টি সামগ্রী তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, বড় আকারের চালান সরবরাহের সময় সংস্থাটি গুণমান যাচাইয়ের নামে ১৯৯টি ভুয়া পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেয়।
বিমানের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেনসাইল স্ট্রেংথ, হার্ডনেস, ব্রেক লোড, নন-ডেসট্রাকটিভ টেস্টিং (NDT), মাইক্রোস্ট্রাকচার অ্যানালাইসিস এবং সল্ট স্প্রে টেস্টিংয়ের মতো পরীক্ষার রিপোর্টগুলো পুরোপুরি জাল ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এইচএএল-এর কঠোর পদক্ষেপ
এই জালিয়াতির বিষয়টি নজরে আসার পরই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেয় এইচএএল। সংস্থাটিকে প্রথমে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও আলোচনার পর, টিইসি অ্যারো ডিভাইসেসকে আগামী তিন বছরের জন্য অনুমোদিত সরবরাহকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৭ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত এই সংস্থাটি আর কোনোভাবেই প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কোনো ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবে না। এছাড়াও, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
তবে স্বস্তির খবর এটাই যে, এইচএএল-এর সময়োচিত হস্তক্ষেপে বিতর্কিত যন্ত্রাংশগুলোর জন্য সরবরাহকারী সংস্থাটিকে কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি। দেশীয় প্রতিরক্ষা গবেষণায় গুণমান ও সুরক্ষার প্রশ্নে এইচএএল যে বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ, এই ঘটনা তা আবারও প্রমাণ করল।