‘চিকিৎসকের পেশাকে অপমান’, মৃতদেহ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে ক্ষমা চাইলেন সেজল পাওয়ার

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান প্রণিত মোরের। কিছুদিন আগেই তাঁর শো-এর ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ সংক্রান্ত ভিডিও নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। সেই বিতর্ক থিতু হতে না হতেই, তাঁর শো-এর আরও একটি ভিডিও এখন ইন্টারনেটে চরম তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
ঠিক কী ঘটেছে?
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, শো চলাকালীন দর্শকদের সারিতে বসে থাকা সেজল পাওয়ার নামে এক মহিলা চিকিৎসককে মঞ্চে ডেকে কথা বলছেন প্রণিত। পেশায় চিকিৎসক সেজল ক্যামেরার সামনেই দাবি করেন, তিনি এবং তাঁর মহিলা সহকর্মীরা ল্যাবে মৃতদেহ নিয়ে কাজ করার সময় পুরুষের যৌনাঙ্গের আকার নিয়ে অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ঠাট্টা-তামাশা করেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে।
নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের একাংশ এটিকে ‘পেশাগত নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন’ বলে দাবি করেছেন। অনেকে আবার এই ঘটনার সঙ্গে হিমাংশু জাংরা মামলার তুলনা টেনেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যদি কোনো পুরুষ চিকিৎসক মৃত মহিলার শরীর নিয়ে এমন উপহাস করতেন, তবে এতক্ষণে বড়সড় হট্টগোল বেধে যেত। অথচ নারীদের ক্ষেত্রে একই ঘটনাকে কেন স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে?”
মৃতদেহের অমর্যাদা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও অনেকে লিখেছেন, সমাজকল্যাণের উদ্দেশ্যে মানুষ মৃতদেহ দান করেন। সেখানে চিকিৎসকদের এই ধরণের সস্তা রসিকতা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অনেকে তো এই ধরনের শো বন্ধ করার দাবিও তুলেছেন।
ক্ষমা চাইলেন সেজল
তীব্র সমালোচনা ও ট্রোলিংয়ের মুখে পড়ে প্রথমে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করে দেন সেজল। পরে অ্যাকাউন্ট পাবলিক করে একটি ক্ষমা প্রার্থনাপত্র শেয়ার করেন তিনি। নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি লেখেন, “ভিডিওটি দেখার পর আমি বুঝতে পেরেছি কেন আমার কথায় মানুষ আহত হয়েছেন। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। আমি কাউকে আঘাত করতে চাইনি, কিন্তু আমার কথার প্রভাব যে নেতিবাচক হয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি। আমি কোনো সাফাই দিচ্ছি না, বরং সম্পূর্ণ দায়ভার নিচ্ছি।”
ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার সময় আরও সতর্ক থাকবেন বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক। তবে ক্ষমা চাইলেও নেটপাড়ার ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি। স্ট্যান্ড-আপ কমেডির নামে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এভাবে হাসি-ঠাট্টা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।