“হয় অভিষেককে রাখুন, না হলে আমাদের ছাড়ুন!” মমতাকে চরম বার্তা দিয়ে অভিষেকের মামলা ছাড়লেন কল্যাণ, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

বিধানসভায় সই জাল মামলার জল এবার গড়াল বহু দূর। একদিকে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) কড়া নির্দেশ, অন্যদিকে দলেরই প্রবীণ সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজিরবিহীন ক্ষোভ—সব মিলিয়ে একযোগে অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। একের পর এক সিআইডি-র (CID) তলব এড়ালেও, এবার আর শেষরক্ষা হলো না। আজ, বৃহস্পতিবারই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতেই হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে উচ্চ আদালত।
হাইকোর্টে জোর ধাক্কা অভিষেকের, তবে মিলল রক্ষাকবচ
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, সিআইডি-র তলবে সাড়া দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজই হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তবে আদালতের তরফে অভিষেককে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডি কোনও কড়া বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ (No Coercive Action) নিতে পারবে না। আগামী দুই সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ বিকেলেই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরছেন অভিষেক। এরপর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে ভবানী ভবনে সিআইডি গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হতে হবে।
“কী উদ্ধত রে বাবা!” অভিষেকের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কল্যাণ
আদালতের এই ধাক্কার মাঝেই তৃণমূলের অন্দরে কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই হাই-প্রোফাইল মামলা থেকে আচমকাই সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। শুধু কল্যাণ একাই নন, তাঁর পুত্র শীর্ষন্য বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সম্পূর্ণ জুনিয়র আইনজীবীদের টিম এই মামলা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এই বিষয়ে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি তৃণমূল নেত্রীকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “মমতাদিকে আমি বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছাড়ুন। নাহলে আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরিয়ে দিন।”
অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বাবু আরও বলেন, “আমি ওর মামলা ছেড়ে দিয়েছি। কী উদ্ধত রে বাবা! বুধবার ওর মামলার কথা আমি আদালতে উল্লেখ করলাম। মমতাদির বাড়িতে সিআইডি যাওয়ার কথা তোলা হল। কোনও কারণে কাল অভিষেকের মামলা আদালত শোনেনি। বিচারপতি কৌশিক চন্দকে আমরা বলি, ‘এটা জরুরি ভিত্তিতে শুনুন। আজ শুনানি হত’।”
পেশাদারী অসম্মানের অভিযোগ তুলে তিনি যোগ করেন, “কাল রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়, জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন ভট্টাচার্য এই মামলায় সওয়াল করবে। আমি পরিষ্কার বলে দিয়েছি, এর সঙ্গে থাকব না। ৪৫ বছর ধরে এই আইন পেশায় রয়েছি। এমন উদ্ধত মনোভাব আমি কিছুতেই মেনে নেব না।”
নজরে ভবানী ভবন
উল্লেখ্য, বিধানসভার এই সই জাল মামলায় এর আগে পরপর তিনবার সিআইডি-র তলব এড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার হাইকোর্টের আইনি বেড়াজালে আজই তাঁকে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আজ সন্ধ্যা ৬টায় অভিষেক ভবানী ভবনে পৌঁছান কি না এবং সিআইডি-র ম্যারাথন জেরায় কী কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।