৩০ জুনের পর বাতিল পকেটের সব কাগজের নোট? বাজারে আসছে প্লাস্টিকের টাকা! তোলপাড় করা খবরের আসল সত্য জানুন

সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে আচমকাই ছড়িয়ে পড়া একটি খবরের জেরে দেশজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। চারদিকে জোরালো দাবি করা হচ্ছে যে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই নাকি ইতিহাস হতে চলেছে দেশের সমস্ত কাগজের নোট! তার বদলে নাকি বাজারে একচেটিয়াভাবে আসতে চলেছে প্লাস্টিকের নোট বা পলিমার কারেন্সি। জুলাই মাসের শুরু থেকেই নাকি আর কোনও কাগজের নোট বৈধ থাকবে না! এই খবর ভাইরাল হতেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোট-বড় ব্যবসায়ী— সকলের কপালেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পকেটে বা ঘরে জমানো নগদ টাকার ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। তবে এই ভাইরাল দাবির আসল সত্যটা ঠিক কী? সত্যি কি আরবিআই (RBI) এমন কোনও নির্দেশিকা জারি করেছে?

ভাইরাল পোস্টের ভয়াবহ দাবি:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) দেশের আর্থিক কাঠামোয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে। জাল নোটের কারবার রুখতে এবং নোটের স্থায়িত্ব বাড়াতে ৩০ জুনের ডেডলাইনের মধ্যে সমস্ত কাগজের নোট প্রত্যাহার করে প্লাস্টিক মুদ্রা চালু করা হবে। এই পোস্ট দেখার পর থেকেই মধ্যবিত্তের মনে দানা বেঁধেছে নতুন এক ‘নোটবন্দি’র আশঙ্কা।

পর্দাফাঁস করল পিআইবি (PIB Fact Check):
দেশজুড়ে এই তীব্র বিভ্রান্তি ও ভয়ের আবহের মাঝেই এবার আসল সত্যটি সামনে এনেছে সরকারের কেন্দ্রীয় তথ্য সংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র ফ্যাক্ট চেক টিম। পিআইবি-র তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার তরফে কাগজের নোট বাতিল করা বা প্লাস্টিকের নোট বাধ্যতামূলক করার সংক্রান্ত এমন কোনও ঘোষণা বা সার্কুলার জারি করা হয়নি। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুয়ো খবর বা ফেক নিউজ।

দেশবাসীকে বড় আশ্বাস সরকারের:
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে যে, দেশের বর্তমান আর্থিক ও ব্যাংকিং কাঠামো যেভাবে চলছে, ঠিক সেভাবেই অক্ষুণ্ণ থাকবে। আপনার বাড়িতে, ব্যাঙ্কে কিংবা পকেটে যে কাগজের নোটগুলি রয়েছে, সেগুলি আগের মতোই ১০০ শতাংশ বৈধ মুদ্রা হিসেবে গণ্য করা হবে। দৈনন্দিন কেনাকাটা বা লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনও রকম সমস্যা হবে না।

সুতরাং, ৩০ জুনের এই ভাইরাল ভুয়ো খবরে কান দিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। আপনার কষ্টের টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সমসাময়িক এমন আরও খবরের সঠিক সত্যতা জানতে চোখ রাখুন techinformetix.in-এর পর্দায়।