ইতিহাস গড়লেন মোদী! জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ভেঙে ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়লেন নরেন্দ্র মোদী। টানা ৪,৩৯৯ দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে তিনি অতিক্রম করলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড (৪,৩৯৮ দিন)। ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদের ‘নির্বাচিত’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
ট্রাম্পের প্রশংসায় মোদী
এই সাফল্যের দিনেই প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন। তিনি ভারতের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি সত্যিই একজন মহান প্রধানমন্ত্রী।” মোদীকে ‘শক্তিশালী, সুস্থ ও জ্ঞানী’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “তাঁর সামনে সাফল্যের আরও বহু বছর পড়ে রয়েছে।”
এই শুভেচ্ছার প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আপনার উষ্ণ শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আমি ভারত-মার্কিন সামগ্রিক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার সাথে কাজ করার অপেক্ষায় আছি, যা আমাদের উভয় দেশ ও বিশ্বের উপকারে আসবে।”
বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছা বার্তা
মোদীকে এই মাইলফলক স্পর্শ করার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও। এক ভিডিও বার্তায় তিনি মোদীকে ভারতের রূপান্তরকারী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, “আপনি ভারতকে বদলে দিয়েছেন। ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছেন।” এছাড়াও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎজ় এবং ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকসহ বহু বিশ্বনেতা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক রেকর্ড
২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে টানা তৃতীয়বার দেশের মসনদে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই দীর্ঘ সফর ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নের ওপর ভর করেই তিনি এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।