দিল্লিতে অভিষেক, বাড়িতে ত্রিপুরা আদালতের সমন! অস্বস্তি বাড়িয়ে এবার ২২ জুন হাজিরা নির্দেশ

সই জালিয়াতি কাণ্ডে সিআইডি-র তলব এড়িয়ে চলা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অস্বস্তি আরও বাড়ল। এবার ২০২১ সালের ত্রিপুরা ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় তাঁকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিল ত্রিপুরার খোয়াই আদালত। আগামী ২২ জুন তাঁকে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

বাড়ি গিয়ে নোটিস, বাধা দেওয়ার অভিযোগ
জানা গেছে, এই সমনটি আলিপুর আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়। বেলিফ স্বয়ং অভিষেকের ঠিকানা অর্থাৎ ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে উপস্থিত হন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে থাকায় বেলিফ সেখানে নোটিস সাঁটাতে যান। সূত্রের খবর, সেই সময় বাধা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বেরিয়ে এসে নোটিসটি গ্রহণ করেন। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, অভিযুক্ত উপস্থিত না থাকলে তাঁর বাড়িতে নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়ার সংস্থান রয়েছে।

কী এই মামলা?
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে ত্রিপুরার খোয়াই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্তের প্রেক্ষিতেই আদালতের এই সমন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিআইডি-র তলব এড়িয়ে চলার আবহে এই নতুন সমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড়সড় আইনি সংকট তৈরি করতে পারে।

আইনি লড়াই ও অনিশ্চয়তা
এদিকে, সই জালিয়াতি কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। আজ সেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে সিআইডি-র চাপ, অন্যদিকে ভিন রাজ্যের আদালতের সমন—সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কী কৌশল নেন, তার দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। তবে ২২ জুন ত্রিপুরা আদালতে তিনি আদৌ হাজিরা দেবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

অভিষেকের এই লাগাতার আইনি জটিলতা আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ও রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।