রাহুলের নিশানায় থাকা মমতাই এখন কংগ্রেসের তুরুপের তাস? রাজনীতির অন্দরে তুঙ্গে জল্পনা!

বাংলার রাজনীতিতে কি ফের কোনো বড় পটপরিবর্তন হতে চলেছে? মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে রাজনৈতিক মেরুকরণ যেভাবে বদলেছে, তাতে বিস্মিত রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব কড়া আক্রমণ শানিয়েছিলেন, আজ সেই মমতাকে নিয়েই নতুন করে সমীকরণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

রাহুলের আক্রমণ বনাম সোনিয়ার প্রস্তাব নির্বাচনী প্রচারে রাহুল গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বিজেপির সহায়ক’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। আরজিকর কাণ্ড থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতির ইস্যুতে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের আবহে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে দলের সংকটময় মুহূর্তে মমতাকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বয়ং সনিয়া গান্ধী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ৬৪ জন বিধায়কের বিদ্রোহ ও দলের ভগ্নদশা কংগ্রেসকে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার এক নতুন সুযোগ করে দিয়েছে।

বৈঠকের পরেই জল্পনা তুঙ্গে সম্প্রতি সনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাসভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক হয়েছে। যদিও মমতা এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি, বরং কিছুটা সময় চেয়েছেন। একই দিনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক রাজনৈতিক মহলের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে প্রতিক্রিয়া এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশ বেশ সরব। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে মার্জ হওয়ার পথে নেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে মমতা বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ: ১. দলের ভাঙন রোধ করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। ২. কংগ্রেসের সঙ্গে কৌশলী সমঝোতা করে রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করা।

এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।