মোদী জমানায় বদলে গেল আয়কর! ১২ বছরের কোন কোন বড় পরিবর্তনে স্বস্তি পেলেন করদাতারা?

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটানা দীর্ঘ মেয়াদের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি, গত ১২ বছরে ভারতের কর কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এনেছেন নরেন্দ্র মোদী। বেতনভোগী কর্মচারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সকলের জন্য আয়কর ব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর করে তোলাই ছিল সরকারের লক্ষ্য। ২০১৪ থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ যাত্রাপথে কর ব্যবস্থায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

কী কী বড় পরিবর্তন এল?

  • নতুন আয়কর আইন, ২০২৫: দীর্ঘ ছয় দশকের পুরনো ১৯৬১ সালের আইন বদলে ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে নতুন আয়কর আইন কার্যকর হয়েছে। আইনি জটিলতা কমিয়ে কর ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করাই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য।

  • কর ছাড়ের পরিধি বৃদ্ধি: ২০১৯ সালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সুবিধা দেওয়ার পর, ২০২৫ সালের বাজেটে নতুন কর ব্যবস্থায় ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়কে করের আওতামুক্ত করা হয়েছে। এটি মধ্যবিত্তদের জন্য বিশাল স্বস্তির খবর।

  • নতুন ও পুরনো কর ব্যবস্থার স্বাধীনতা: ২০২০ সালে প্রবর্তিত নতুন কর ব্যবস্থা করদাতাদের হাতে বিকল্প তুলে দিয়েছে। সেই সাথে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বাড়িয়ে নতুন কর ব্যবস্থায় ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট (Faceless Assessment): করদাতা ও আয়কর কর্মকর্তাদের সরাসরি সাক্ষাতের ঝামেলা কমিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ডিজিটাল ও ফেসলেস। এতে স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং হয়রানির অভিযোগ কমেছে।

  • সহজ রিটার্ন দাখিল (ITR): প্রি-ফিল্ড ফর্মের দৌলতে এখন রিটার্ন দাখিল করা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত। সেই সাথে ভুল সংশোধনের জন্য ‘আইটিআর-ইউ’ (ITR-U) সুবিধা করদাতাদের বড় ভরসা দিচ্ছে।

  • দ্রুত রিফান্ড: অটোমেশনের ফলে রিফান্ড পাওয়ার সময় এখন কয়েক দিনেই নেমে এসেছে, যা কয়েক বছর আগেও ছিল অকল্পনীয়।

  • ডিজিটাল স্বচ্ছতা: বার্ষিক তথ্য বিবরণী (AIS) এবং করদাতা তথ্য সারাংশ (TIS) চালুর মাধ্যমে নিজের আর্থিক লেনদেনের হিসেব এখন এক ক্লিকেই পাচ্ছেন করদাতারা।

কঠোর নজরদারিও বেড়েছে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধে উচ্চ-মূল্যের লেনদেনের ওপর সরকার কড়া নজরদারি রেখেছে। ই-কমার্স, বৈদেশিক রেমিটেন্স এবং বড় ব্যবসায়িক পেমেন্টের ক্ষেত্রে টিডিএস (TDS) ও টিসিএস (TCS) বিধিগুলো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

মোদী সরকারের এই ১২ বছরের কর সংস্কার মূলত ‘ইজ অফ লিভিং’-এর লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। প্রযুক্তি ও সরলীকৃত আইনের মিশেলে ভারতের আয়কর ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করার পথে এ এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।