মমতার ঘরে ফেরার ইঙ্গিত? কংগ্রেসের জরুরি তলবে দিল্লিতে তুঙ্গে জল্পনা!

দেশের রাজনীতিতে কি ফের বড় কোনো পালাবদলের সময় সমাগত? বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেস হাইকমান্ডের ডাকা এক জরুরি বৈঠকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের নেতাদের কংগ্রেসে যোগদান বা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কংগ্রেসের মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সোনিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক, তারপরেই তোড়জোড় বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকের আবহে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর দীর্ঘ একান্ত বৈঠক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক সংকট এবং দলীয় নেতাদের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত কংগ্রেসের ছাতার নিচেই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। এমনকি, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মমতাকে সর্বভারতীয় স্তরে বড় কোনো পদের (সম্ভাব্য সহ-সভাপতি) প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বলেও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনার খবর মিলছে।

কেন এই জল্পনা? বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই কংগ্রেস হাইকমান্ড সমস্ত রাজ্যের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের দিল্লিতে জরুরি তলব করেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিসে ডাকা এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

  • জোটের দুর্বলতা: ডিএমকে ও সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক মনোমালিন্য এবং আম আদমি পার্টির মতো শরিকদের দূরত্ব তৈরির ফলে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ বর্তমানে অনেকটাই নড়বড়ে।

  • তৃণমূলের সংকট: রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসা এবং দলের অন্দরে ভাঙনের গুঞ্জনের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কোনো জোরালো মঞ্চ খুঁজছেন।

  • সখ্যতা: রাহুল গান্ধী ও সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে মমতা-অভিষেক জুটির ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক একীভূতকরণের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে? অনেকেই মনে করছেন, যারা একসময় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গঠন করেছিলেন, আজকের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁরা কি আবার পুরোনো দলের সঙ্গেই ঘর বাঁধতে চলেছেন? যদিও তৃণমূল বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকটি দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।