আবার কি মেসিতেই বাজিমাত? ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শক্তি ও রণকৌশল জানলে চমকে উঠবেন!

৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় করেছিল আর্জেন্টিনা। দুই বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চেও সেই একই আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। কোচ, ক্যাপ্টেন থেকে শুরু করে দলের মূল কাঠামো—প্রায় অপরিবর্তিত রেখে আবারও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা।

দলের শক্তি ও স্কোয়াড বিশ্লেষণ

২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয়ী এই দলটি এখন দারুণ ছন্দে রয়েছে। স্কালোনি বরাবরই তরুণ প্রতিভার চেয়ে অভিজ্ঞতার ওপর বেশি আস্থা রেখেছেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় এবারও স্কোয়াডে আছেন।

  • যাঁরা নেই: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ায় অ্যাঞ্জেল দি মারিয়াকে মিস করবে দল। এছাড়া শেষ মুহূর্তে পায়ের পেশির চোটে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি। তরুণ তুর্কি আলেহান্দ্রো গার্নাচো এবং ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোর মতো উঠতি প্রতিভা জায়গা না পাওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা থাকলেও, কোচের সিদ্ধান্তে ‘অভিজ্ঞতাই প্রধান’ বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

  • নতুন মুখ: দলে হাতে গোনা মাত্র ৩ জন নতুন ফুটবলার রয়েছেন, যাদের বয়স ২৫ বছরের কম।

আক্রমণভাগের বাজি: মেসি-অ্যালভারেজ-মার্টিনেজ

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মূল শক্তি হতে চলেছে তাদের আক্রমণভাগ। কাতার বিশ্বকাপের শিক্ষা থেকে দল এবার আর শুধু মেসির ওপর নির্ভরশীল নয়। মেসিকে ঘিরে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ যখন ব্যস্ত থাকবে, তখন সেই সুযোগ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন জুলিয়ান অ্যালভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজ

  • কেন তাঁরা বিপজ্জনক? অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের অ্যালভারেজ এবং ইন্টার মিলানের মার্টিনেজ গোল করার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। মেসি প্রতিপক্ষের রক্ষণকে নিজের দিকে টেনে নিলে, এই দু’জনের সামনেই ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে, যা কাজে লাগিয়ে বিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

মাঝমাঠের কারিগর এনজো ফার্নান্ডেজ

আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল জোগানদার হিসেবে থাকছেন চেলসির এনজো ফার্নান্ডেজ। নিখুঁত পাসিং এবং পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। মেসি-অ্যালভারেজ-মার্টিনেজের সমন্বয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছেন এই মিডফিল্ডার।

উপসংহার

অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের ভারসাম্য মেনে আর্জেন্টিনা এবার কি পারবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ নিজেদের ঘরে রাখতে? কোচ স্কালোনির এই রণকৌশল প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য কতটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মহারণের জন্য সারা বিশ্বের মেসি ভক্তরা অপেক্ষায়।