বাধা পেরিয়ে মমতার অন্দরমহলে সিআইডি! রণক্ষেত্র কালীঘাট, মেজাজ হারালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভায় সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার বিকেলে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল কালীঘাট। প্রবল বাধা ও তর্কাতর্কির পর অবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন এবং সংলগ্ন পার্টি অফিসে প্রবেশ করলেন সিআইডি আধিকারিকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে থাকায়, তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

যা যা ঘটল কালীঘাটে: তদন্তকারী দল পৌঁছানোর পরই তৃণমূল নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁদের তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। শুভাশিস বাবু সাফ জানিয়ে দেন, নেত্রী ও অভিষেক দিল্লিতে থাকায় তাঁদের অনুমতি ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর সিআইডি আধিকারিকরা ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ভিডিওগ্রাফি শুরু করেন। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িই নয়, এদিন অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও সিআইডি হানা দিয়েছে বলে খবর।

ঘটনাস্থলে কুণাল ও কল্যাণ: পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই দ্রুত কালীঘাটে পৌঁছান তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো মেজাজ হারান। উপস্থিত সিআইডি আধিকারিক এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে সরাসরি ‘শুভেন্দু অধিকারীর দালাল’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বাড়িতে নেই, ঠিক তখনই বেছে বেছে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সঙ্গে করে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়ে আসার মানে কী?’’

অপরদিকে, কুণাল ঘোষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাঁর বক্তব্যে কিছুটা সতর্কবার্তা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি জানান, কেন এই তল্লাশি তা নিয়ে তিনি অবহিত নন।

তদন্তে বাধা নাকি বিভ্রান্তি? সিআইডির দাবি, তদন্তের প্রয়োজনে নিয়ম মেনেই এবং আগে থেকে নোটিশ দিয়েই তারা এসেছে। তবে কেন তল্লাশিতে বাধা দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তকারীরা। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এটি তদন্তে সরাসরি বাধা দেওয়ার ঘটনা। অন্যদিকে শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে সিআইডি ঠিক কী কী নথি সংগ্রহ করল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।