রাজ্যে শুরু ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প! দুর্নীতি রুখতে জেলাশাসকদের জন্য কড়া নির্দেশিকা নবান্নের

রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তৎপর রাজ্য সরকার। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠাল নবান্ন। সোমবার মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল প্রশাসনিক কর্তাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এবার প্রকল্পের কাজে কোনো রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

শুরু হয়ে গেল নতুন নিয়ম:
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বাদে রাজ্যের বাকি জেলাগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা মেনে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই প্রকল্পটি চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই সময়সীমা মেনেই এখন কাজ শুরু হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

কেন এই কড়াকড়ি?
অতীতের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, অতীতে ভুল পরিকল্পনা, তদারকির অভাব, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ অনুমোদন, তথ্য যাচাইয়ে গাফিলতি এবং এমআইএস (MIS) আপডেটে বিলম্বের মতো সমস্যায় প্রকল্পের গতি ব্যাহত হয়েছিল। এবার সেই সব ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি ও সামাজিক নিরীক্ষার (Social Audit) ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভুয়ো জব কার্ডধারীদের চিহ্নিত করতেও প্রশাসনের বিশেষ নজর থাকবে।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য:
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র কর্মসংস্থান তৈরি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী ও উৎপাদনশীল সামাজিক সম্পদ গড়ে তোলা। সরকারের নির্দেশিকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:

জল সংরক্ষণ ও খরা প্রতিরোধ।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন।

প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ও সুপরিকল্পিত ব্যবহার।

প্রশাসনের আশা, এই নতুন নির্দেশিকা ও নজরদারি ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক মানুষের কাছে কাজের সুফল দ্রুত পৌঁছাবে এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।