হঠাৎ বদল ট্রাম্পের সুর! কেন মোজতবা খামেনির প্রশংসায় পঞ্চমুখ মার্কিন প্রেসিডেন্ট? রহস্য ফাঁস

একদিকে হুমকি, অন্যদিকে প্রশংসার সুর—ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চালে ধন্দ পড়ে গিয়েছেন বিশ্বনেতারা। যে ইরানকে একসময় ধ্বংস করার শপথ নিয়েছিলেন, সেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখন ‘মেধাবী’ ও ‘সম্মানিত’ বলে অভিহিত করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ট্রাম্পের এই আকস্মিক ‘হৃদয় পরিবর্তনের’ পেছনে লুকিয়ে আছে এক কঠিন সত্য।

১০০ দিনের যুদ্ধের রণক্লান্তি: ৭ জুন, ২০২৬। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হলো। যুদ্ধের এই ১০০ দিন ওয়াশিংটনের জন্য হয়ে উঠেছে এক দুঃস্বপ্ন। রণক্ষেত্রে ইরানের অপ্রত্যাশিত সামরিক জবাব মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকার অনেক সামরিক ঘাঁটি ইতিমধ্যেই খালি করতে হয়েছে।

বিশাল আর্থিক ও সামরিক ক্ষতি: ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় আমেরিকার যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সামরিক ইতিহাসে বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, ১ ট্রিলিয়ন রুপিরও বেশি মূল্যের মার্কিন সরঞ্জাম ধুলোয় মিশেছে:

  • ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।

  • ৫টি এফ-১৫ এবং ১টি এফ-৩৫ এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে।

  • ৪টি থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা।

ট্রাম্পের উপলব্ধি: “ইরান ভেনিজুয়েলা নয়” ট্রাম্পের সুর নরম হওয়ার মূল কারণ সম্ভবত যুদ্ধক্ষেত্রের কঠোর বাস্তবতা। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, “ইরান ভেনিজুয়েলার মতো নয়, যেখানে সহজেই অভিযান শেষ করা যায়।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক সম্মান বাঁচাতে ট্রাম্প এখন সমঝোতার পথ খুঁজছেন।

মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী ট্রাম্প: ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যে মোজতবা খামেনির সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। তিনি বলছেন, “যদি কোনো সমঝোতা হয়, তবে আমি তার সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী।” ট্রাম্পের ধারণা, মোজতবা একজন পেশাদার নেতা এবং তিনি যুদ্ধের চেয়ে শান্তির প্রয়োজনীয়তা বুঝবেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন পথে? ট্রাম্পের এই ‘নরম অবস্থান’ কি নিছক একটি রাজনৈতিক কৌশল, নাকি সত্যিই যুদ্ধের ইতি টানার ইঙ্গিত? একদিকে ইরানের শক্ত সামরিক কূটনীতি, অন্যদিকে আমেরিকার পিছু হটার লক্ষণ—মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনি ট্রাম্পের এই আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।