‘ডাকাতটাকে পুলিশমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দিন, ঠিক করার দায়িত্ব আমার!’ তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

বিধাননগর পুরনিগম নির্বাচনের দামামা বেজে ওঠার আগেই তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার আয়োজিত এক রক্তদান শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ তুলে জোড়াফুল শিবিরকে ‘ছিন্নমূল’ বলে কটাক্ষ করেন।

‘ডাকাত’ শোধরানোর দায়িত্ব আমার নিজের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। ফলতার জনৈক জাহাঙ্গির খানের নাম না করে তিনি বলেন, “পুষ্পা ঝুকেগা নেহি বলেছিল, কিন্তু ঝুঁকতে ঝুঁকতে পুষ্পা এখন হারিয়ে গিয়েছে।” এর পরেই বিধাননগরের প্রসঙ্গে তৃণমূলকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “এখানকার ডাকাতটাকে পুলিশমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দিন। তাকে ঠিক করার দায়িত্ব আমার। ফলতার থেকে করুণ অবস্থা হবে বিধাননগরে।”

অনুপ্রবেশ রুখতে জিরো টলারেন্স রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলায় নিজের সরকারের স্পষ্ট অবস্থানের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র ২৮ দিনে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-এর (BSF) হাতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডোরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

জেলে নয়, সরাসরি ফেরত অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের সরকার অনুপ্রবেশকারীদের জামাই আদর করে জেলে রাখত, রাজ্যের টাকায় খাওয়া-দাওয়া করত। আমরা সেই নীতি বদলে ফেলেছি।” তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ৪৮০০ জন অনুপ্রবেশকারীকে ভারত সরকারের আইন মেনে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় তৈরি করা হোল্ডিং সেন্টারে ৮৩৬ জন অনুপ্রবেশকারী আটক রয়েছে, যাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো হবে।

উন্নয়নের বাজেট নিয়ে ইঙ্গিত ৩৪ বছরের বাম শাসন ও ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় পশ্চিমবঙ্গ অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা রাজ্য বাজেটেই মানুষের আশা-ভরসার প্রতিফলন ঘটবে। রাজ্যকে নতুন করে গড়ে তোলার শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা পশ্চিমবঙ্গকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাব।”

বিধাননগর পুরনিগম নির্বাচনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং প্রশাসনিক অ্যাকশন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।