এআই কি সত্যিই ‘ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত’? ডেটা সেন্টার নিয়ে এল উদ্বেগজনক রিপোর্ট!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর দৌড়ে শামিল হতে মরিয়া ভারত। দেশে বর্তমানে ১৫৩টি কমার্শিয়াল ডেটা সেন্টার থাকলেও, এআই-চালিত ডেটা সেন্টার তৈরির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই ডেটা সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিকাঠামো বা দক্ষ জনবলের চেয়েও বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ এবং জলের আকাশছোঁয়া চাহিদা।

কেন এআই সেন্টারগুলো ‘ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত’? সাধারণ ক্লাউড ডেটা সেন্টারের তুলনায় এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা GPU ব্যবহৃত হয়। এই বিপুল পরিমাণ হার্ডওয়্যার চালানোর জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন, তা সাধারণের ধারণার বাইরে।

  • বিদ্যুতের চাপ: ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি এআই ডেটা সেন্টার যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে, তা দিয়ে প্রায় ১ লক্ষ পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর ফলে দেশের বিদ্যুত গ্রিডের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হতে পারে।

  • জল সংকট: এই সেন্টারগুলো থেকে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা ঠান্ডা করতে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। অথচ ভারতের কাছে রয়েছে বিশ্বের জলসম্পদের মাত্র ৪ শতাংশ, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ১৮ শতাংশ। এমতাবস্থায় ডেটা সেন্টারের জল ব্যবহার দেশের জলসম্পদের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ: বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত কুলিং প্রযুক্তি এবং বিদেশি সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে এই ধরনের ডেটা সেন্টার তৈরির খরচ অনেক বেশি। এআই প্রযুক্তিতে ভারতের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন: ১. বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো শক্তিশালী করা। ২. আধুনিক জল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ব্যবহার। ৩. দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করা।

ভারতের লক্ষ্য যদি এআই ডেটা সেন্টারের বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে ওঠা হয়, তবে বিদ্যুৎ ও জলের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করাই হবে এখন সবচেয়ে বড় কাজ।