পারিবারিক কলহের চরম পরিণতি! গুরুগ্রামে স্ত্রী ও ছেলেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে খুন করল নিরাপত্তা কর্মকর্তা

পারিবারিক অশান্তি যে কত ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তার সাক্ষী থাকল গুরুগ্রামের অশোক বিহার কলোনি। রবিবার ভোররাতে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করলেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত অনিলকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঠিক কী?
নিহতরা হলেন ৪৫ বছর বয়সী আশা, যিনি একটি বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন এবং তাঁদের ২৫ বছর বয়সী ছেলে প্রশান্ত। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অনিল এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পারিবারিক কলহ চলছিল। শনিবার গভীর রাতেও তাঁদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বাবার ঝগড়া থামাতে পাশের ঘর থেকে ছুটে আসেন ছেলে প্রশান্ত। কিন্তু সেই চেষ্টাই তাঁর কাল হয়ে দাঁড়ায়।
ক্রোধের উন্মাদনা:
তর্কাতর্কির চরম মুহূর্তে অনিল তাঁর লাইসেন্স করা পিস্তলটি বের করে স্ত্রী আশা ও ছেলে প্রশান্তকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা গুলির শব্দ শুনে দ্রুত ছুটে এসে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছে মা ও ছেলের দেহ। অথচ আশ্চর্যভাবে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও অভিযুক্ত অনিল পালানোর কোনো চেষ্টা করেনি; বরং সে মৃতদেহ দুটির পাশে শান্ত ও অবিচলিতভাবে বসে ছিল।
পুলিশের পদক্ষেপ:
খবর পেয়েই পালাম বিহার থানার পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহগুলো সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অনিল একসময় শিক্ষকতা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষকের কাজ করতেন, পরে তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পেছনের কারণ ও তার ব্যক্তিগত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একজন অধ্যক্ষ স্ত্রী এবং শিক্ষিত ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী। পারিবারিক কলহের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত সকলেই। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে পুলিশ।