বিয়ে করতে এসে রণক্ষেত্র মণ্ডপ! কনে পালানোর পর বোনের বিয়েতে চরম বিশৃঙ্খলা, আহত ৩

বিয়ের মণ্ডপে আনন্দের পরিবেশ বদলে গেল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। কনের প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া নাটক শেষ হলো বিয়ে বাতিলের মাধ্যমে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বেরেলির বিথরি চেইনপুর থানা এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত:
শনিবার নারিয়াওয়ালের একটি বিবাহ হলে বিয়ের আসর বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যদের চোখ এড়িয়ে নিজের প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায় হবু কনে। যাওয়ার সময় সে সঙ্গে নিয়ে যায় বিয়ের গয়নাও। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। সম্মান বাঁচাতে গ্রাম্য পঞ্চায়েত ও আত্মীয়দের মধ্যস্থতায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বড় বোনের বদলে ছোট বোনের সঙ্গেই বিয়ে দেওয়া হবে বরের।

পরের টুইস্ট ও সংঘর্ষ:
ছোট বোনের সাথে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরেই নতুন করে বিপত্তি দেখা দেয়। বিয়ের মণ্ডপে থাকাকালীনই বরের বাড়ির লোক জানতে পারেন, ছোট বোনটিও অন্য এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে এবং এই বিয়েতে তারও প্রবল আপত্তি রয়েছে।

এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি চরম আকার ধারণ করে। মুহূর্তের মধ্যে বিয়ের মণ্ডপ পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। লাঠি ও ইট নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। এই সংঘর্ষে কনের চাচাতো ভাইসহ মোট তিনজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশি হস্তক্ষেপ ও বিয়ে বাতিল:
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিথরি চেইনপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এসও রাজেশ মিশ্র জানিয়েছেন, দুই বোনেরই প্রেমের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসার পর সংঘর্ষ বাধে। শেষ পর্যন্ত কোনো বিয়েই সম্পন্ন হয়নি। কনে ও ছোট বোন—উভয়কেই ছাড়া বিথরি চেইনপুর এলাকা থেকে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হয় বরযাত্রীদের।

বিয়ের আসরে এমন চূড়ান্ত অশান্তি ও সহিংসতার ঘটনায় শোক ও বিস্ময় ছড়িয়েছে পুরো গ্রামে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।