হলিউডে ১১০ বিলিয়ন ডলারের মেগা-চুক্তিতে অশান্তি! পথে নামলেন বিনোদন শিল্পের কর্মীরা

হলিউডের বিনোদন জগতে এক বিশাল পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে ১১০ বিলিয়ন ডলারের এক মেগা-চুক্তি। প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের এই পরিকল্পনা নিয়েই এখন উত্তাল লস অ্যাঞ্জেলেসের রাজপথ। বিনোদন শিল্পের হাজার হাজার কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক ইউনিয়ন এই চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, এই একীভূতকরণ কেবল সৃজনশীল বৈচিত্র্যকেই নষ্ট করবে না, বরং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও কেড়ে নিতে পারে।

সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর বড় ধাক্কা:
‘মেইন স্ট্রিট বনাম একীভূতকরণ’ শীর্ষক প্রচারণার অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৌতুক অভিনেতা অ্যাডাম কনোভার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হলিউড কেবল একটি শিল্প নয়, এটি আমেরিকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি বড় অংশ। বড় বড় কর্পোরেশনের কব্জায় যদি সবকিছু চলে যায়, তবে সৃজনশীল স্বাধীনতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে এটিঅ্যান্ডটি এবং টাইম ওয়ার্নারের একীভূতকরণের পর তাঁর নিজের শো ‘অ্যাডাম রুইনস এভরিথিং’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বহু কর্মী বেকার হয়ে পড়েন।

চাকরি নিয়ে কেন দুশ্চিন্তা?
হলিউডের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট ভঙ্গুর। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়া এবং টিভি বিজ্ঞাপনের আয় কমে যাওয়ায় স্টুডিওগুলো এখন খরচ কমানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বাইরে কম খরচের অঞ্চলে প্রযোজনা সংস্থাগুলোর চলে যাওয়ায় স্থানীয় স্টুডিও ও কারিগরি কর্মীরা ইতিমধ্যেই কাজ হারিয়েছেন। কর্মীদের আশঙ্কা, নতুন করে এই একীভূতকরণ হলে খরচের অজুহাতে আরও ব্যাপকহারে কর্মী ছাঁটাই করা হবে।

আইনি জটিলতা ও আগামীর পথ:
প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স অবশ্য দাবি করেছে, এই একত্রীকরণ চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য লাভজনক হবে এবং নতুন সংস্থাটি প্রতি বছর অন্তত ৩০টি চলচ্চিত্র মুক্তির ক্ষমতা রাখবে। তবে তাদের এই দাবিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়া এবং নিউইয়র্ক সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য আদালতে এই চুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি যদি বাজার প্রতিযোগিতা কমিয়ে ফেলে এবং কর্মসংস্থান পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো তা আটকে দেওয়ার কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আগামী মাসগুলোতে এই মেগা-চুক্তি হলিউডের ভাগ্য কোন দিকে মোড় ঘোরায়।