১০,৫০০ বর্গফুটের বাংলো থেকে ১৩টি প্লট—কোটিপতি ইঞ্জিনিয়ারের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেল ভিজিল্যান্স!

সরকারি চাকরিজীবীদের দুর্নীতি ও বিপুল আয়ের বৈপরীত্যের এক চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ওড়িশার কান্ধামাল জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বৈকুণ্ঠনাথ বেহেরা। ১৯৯৯ সালে মাত্র ৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে কর্মজীবন শুরু করা এই আধিকারিকের বাড়ি ও অফিসসহ মোট ৯টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে যে পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, তা দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত তদন্তকারীরা।

বিশাল তল্লাশি অভিযান:
ওড়িশা ভিজিল্যান্স বিভাগের এই মেগা অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন দু’জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পাঁচজন ডিএসপি এবং ছ’জন ইন্সপেক্টর। ভুবনেশ্বর, যাজপুর, বারিপদা এবং বালিগুড়াতে একযোগে চালানো এই তল্লাশিতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সম্পত্তির পাহাড়ের খতিয়ান:

বিলাসবহুল বাড়ি: ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারে ১০,৫০০ বর্গফুটের বিশাল চারতলা বাংলোসহ মোট পাঁচটি বহুতল বাড়ির মালিকানার হদিশ পাওয়া গিয়েছে।

মূল্যবান জমি: ভুবনেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৭টি প্লটসহ মোট ১৩টি জমির নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে।

নগদ ও লকার: শুরুতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২.৬৬ লক্ষ টাকা মিললেও, ব্যাঙ্ক লকার খুলতেই তদন্তকারীরা দেখেন প্রায় ২ কোটি টাকা নগদ রাখা আছে। আরও দুটি লকার এখনও বাকি, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যান্য বিনিয়োগ: নগদ ছাড়াও প্রচুর সোনার গয়না, ব্যাঙ্ক ডিপোজিট, পোস্ট অফিসের বিনিয়োগ এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা।

বেতন ৬ হাজার, সম্পদ আকাশচুম্বী:
১৯৯৯ সালে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা বৈকুণ্ঠনাথ বেহেরার প্রমোশন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর এই অঢেল সম্পত্তির উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ভিজিল্যান্স বিভাগ এখন তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে এই বিশাল অংকের সম্পদের সামঞ্জস্যতা যাচাই করছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ থেকেই পরিষ্কার—বৈধ আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

এই মামলাটি বর্তমানে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, এই ইঞ্জিনিয়ারের দুর্নীতির জাল তত বড় আকার ধারণ করছে, যা থেকে আগামী দিনে আরও বড় কোনো তথ্য বেরিয়ে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।