ত্বিষা শর্মা মৃত্যু রহস্য! প্রমাণের হেফাজত নিয়ে সিবিআই তদন্তে চাঞ্চল্যকর গাফিলতির অভিযোগ

হাই-প্রোফাইল ত্বিষা শর্মা মৃত্যু মামলায় সিবিআই (CBI) তদন্ত চলাকালীনই উঠে এল মারাত্মক কিছু অভিযোগ, যা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত ‘লিগেচার’ বা দড়িটি বাজেয়াপ্ত করা এবং সেটি সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি সামনে আসায় তোলপাড় প্রশাসনিক ও পুলিশ মহলে।
তদন্তে কোথায় গলদ?
আদালতে পেশ করা সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, ১৩ মে ঘটনার পর সাব-ইন্সপেক্টর দীনেশ শর্মা দড়িটি বাজেয়াপ্ত করেন। কিন্তু পুলিশের তৈরি ‘সিজার মেমো’-তে কোনো শনাক্তকারীর নামই ছিল না। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ঘটনাস্থলে থাকা ত্বিষার শাশুড়ি (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরিবালা সিং) বা স্বামী সমর্থ সিং কেউই ওই দড়িটি শনাক্ত করেননি। কোনো সাক্ষী ছাড়াই কীভাবে সেটিকে প্রধান প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রমাণ কি কারচুপি করা হয়েছে?
তদন্তের আরও বিস্ফোরক দিক হলো, দড়িটি কোনো সুরক্ষিত মালখানায় রাখার বদলে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তকারী অফিসারের ব্যক্তিগত গাড়িতে রাখা ছিল। ভোপালের এইমসে (AIIMS) পাঠানোর আগে প্রমাণ যেভাবে রাখা হয়েছে, তাতে সেটিতে কারচুপি (Tampering)-র আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আইনজ্ঞরা। এছাড়া তদন্তের গোপন ‘কেস ডায়েরি’র নথি অভিযুক্তদের আগাম জামিনের আবেদনের সময় কীভাবে তাদের কাছে পৌঁছাল, তা নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সিবিআই-এর পরবর্তী পদক্ষেপ
এই অসঙ্গতিগুলোর মধ্যেই সিবিআই তদন্তের গতি বাড়িয়েছে। গত ১ জুন ঘটনাস্থলে গিয়ে ডামি ব্যবহার করে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Recreation) করা হয়েছে। মৃতার শরীরের ওজনের সমান একটি ডামি ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়েছে আত্মহত্যা আদৌ সম্ভব কি না। মামলার মূল অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে আদালত ইতিমধ্যে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
তদন্তের মূল লক্ষ্য
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে ‘অ্যান্টিমর্টেম হ্যাঙ্গিং’-এর কথা উল্লেখ থাকলেও, শরীরের অন্যান্য আঘাতের দাগ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। এখন সিবিআই-এর চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তথ্যের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই। ত্বিষার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র—তার উত্তর পেতে আপাতত সিবিআই-এর পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় আদালত ও দেশবাসী।