‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ময়দানি লড়াই! পাল্টা তোপ দাগলেন বিজেপির নীতিন নবীন

কেন্দ্রীয় নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশের রাজপথে নতুন এক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটল। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এই আন্দোলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ময়দানে নেমে জবাব দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।

কী বললেন নীতিন নবীন?
ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে এক আলোচনা সভায় নীতিন নবীন সরাসরি কোনো দলের নাম না নিলেও তাঁর নিশানায় ছিল এই নতুন সংগঠনটি। বিজেপি সভাপতির কথায়, “দেশের যুবসমাজকে নেতিবাচক রাজনীতির পথে ঠেলে দেওয়া যাবে না। ভারতের তরুণ প্রজন্ম দেশ গঠন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দিকেই মনোযোগী।” বিদেশে বসে কাউকে দেশের যুবসমাজকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করার জন্যও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

কেন এই বিক্ষোভ?
পরীক্ষায় অনিয়ম, নিট (NEET), কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশিকা এবং কর্মী নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির প্রতিবাদে এদিন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীদের অনেকের মুখেই ছিল ককরোচের মুখোশ। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আমেরিকা থেকে এসে এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। সঙ্গে ছিলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁদের দাবি, এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে, নতুবা দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

বিরোধীদের সমর্থন, কংগ্রেসে মতভেদ
এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরেও মেরুকরণ স্পষ্ট। আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) এবং বাম দলগুলি এই নতুন আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল থেকে মহুয়া মৈত্রের মতো নেতারা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তবে কংগ্রেসের অন্দরে এই আন্দোলন নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। দলের একটি অংশ যুবশক্তির এই লড়াইকে সমর্থন করলেও, অন্য একটি অংশ এই কর্মসূচিকে ‘প্রতীকী’ এবং ‘ব্যর্থ’ বলে কটাক্ষ করেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তরুণ প্রজন্মের এই ক্ষোভ এবং নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।