‘নতুন সরকারের কাজে আমি মুগ্ধ’-শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় প্রাক্তন CM বুদ্ধদেবের স্ত্রী

পকসো (POCSO) মামলায় নাম জড়ানো কলকাতা পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর জসিমুদ্দিনের বাড়ি ঘিরে রবিবার সকালে চাঞ্চল্য ছড়াল কলেজ স্ট্রিট এলাকায়। জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল দল কাউন্সিলরের বাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করেছে। অভিযোগ, শনিবার রাতে ওই মামলাকারী নাবালিকার ওপর হামলা ও তাকে হুমকি দেওয়ার পরই পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য: ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক নাবালিকা ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল। বর্তমানে সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ, শনিবার রাতে যখন ওই নাবালিকা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ লোকজন তার ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি জানাজানি হতেই প্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় নেমে পড়ে কাউন্সিলরের বাহিনী। ওই এলাকার বেশিরভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ, যাতে হামলার কোনো ফুটেজ পুলিশের হাতে না পৌঁছায়। স্থানীয় যুবকদের তৎপরতায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ইতিমধ্যেই কাউন্সিলরের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নতুন অভিযোগের পাহাড়: শুধু পকসো মামলাই নয়, কাউন্সিলর জসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে উঠেছে দখলদারি ও দুর্নীতির নতুন অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার একটি বাড়ি দীর্ঘ দিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিলেন এই কাউন্সিলর। সেই বাড়িতে বসেই চলত নানা ধরনের অপকর্ম ও অসামাজিক কাজকর্ম। এই ‘দুর্নীতির আখড়া’ হিসেবে ব্যবহৃত বাড়িটি নিয়েও পুলিশকে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, যাদবপুরের প্লেসমেন্ট সেল দুর্নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক কমিটির রিপোর্টের পর, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে অস্বস্তি বাড়ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করার অভিযোগটির আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং কাউন্সিলরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বয়ান রেকর্ড করা হবে।