বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে বিমানবন্দরে হেনস্থা ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেন!

ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে চরম অস্বস্তির মুখে পড়ল ইরাক জাতীয় ফুটবল দল। শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে নামার পরই দলের তারকা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেন এবং অফিসিয়াল ক্যামেরাম্যান তালাল সালাহকে দীর্ঘক্ষণ আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ।

কী ঘটেছিল বিমানবন্দরে?
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য শিকাগোতে পা রাখার পরপরই নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিশানায় পড়েন আইমেন হুসেন। ইরাকের হয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা এই গোলদাতা স্ট্রাইকারকে আলাদা করে নিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও তল্লাশি করা হয়। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে দলের ক্যামেরাম্যান তালাল সালাহর ক্ষেত্রে। তাঁকে প্রায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরিশেষে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অস্পষ্ট কারণ ও কর্তৃপক্ষের নীরবতা
ইরাক ফুটবল দলের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে নামার পরপরই নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তাঁদের আলাদা করা হয়। তবে কেন এত দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো এবং একজন সদস্যকে কেন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো না, সে বিষয়ে ইরাক ফুটবল সংস্থা কিংবা মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সমর্থকদের ভিড় ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি
বিমানবন্দরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভোর থেকে শিকাগো বিমানবন্দরে জড়ো হন ইরাকি সমর্থকরা। প্রিয় ফুটবলারদের এক নজর দেখার জন্য এবং সমর্থন জানানোর জন্য পতাকা হাতে তাঁরা ভিড় জমান। এই বাধার মুখেও আইমেন হুসেন ও তাঁর সতীর্থদের ঘিরে ছিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘গ্রুপ আই’-এ জায়গা করে নিয়েছে ইরাক। এই গ্রুপে তাদের কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে ফ্রান্স, সেনেগাল এবং নরওয়ের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিমানবন্দরের এই ঘটনা নিয়ে এখন ফুটবল মহলে তীব্র গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।