মমতার হয়ে ইউসুফ পাঠানকে বার্তা! সৌরভ গাঙ্গুলীকে জড়িয়ে এই জল্পনা কি তবে ভিত্তিহীন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন। বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভায় প্রত্যাবর্তন এবং সেই লক্ষ্যে ইউসুফ পাঠানকে সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করানোর বিষয়ে সৌরভ গাঙ্গুলীর নাম জড়িয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এই পুরো বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক তথা বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? সম্প্রতি একটি বাংলা দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে লোকসভা নির্বাচনে লড়তে চাইছেন। সেই লক্ষ্যেই বহরমপুর আসনটিকে নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বর্তমান সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করতে রাজি করানোর জন্য তৃণমূলের তরফ থেকে সৌরভ গাঙ্গুলীর শরণাপন্ন হওয়া হয়েছিল। বহরমপুরের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী।
সৌরভের সাফ জবাব: এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে সৌরভ গাঙ্গুলী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, এই দাবিগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার কোনো বার্তা দিতে বলেননি। আমিও ব্যক্তিগতভাবে ইউসুফের কাছে এই ধরনের কোনো প্রস্তাব নিয়ে যাইনি।”
সৌরভ আরও বলেন, “আমি জীবনে কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকিনি। ভিত্তিহীন এই দাবিগুলো কেবল সত্যকে উপেক্ষা করার শামিল।”
রাজনীতির অন্দরমহলের জল্পনা: নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। কিন্তু সৌরভের এই জোরালো খণ্ডন নিশ্চিত করল যে, তাঁকে কোনোভাবেই রাজনীতির এই দাবা খেলায় ‘দূত’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌরভ গাঙ্গুলী বরাবরই খেলার মাঠ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গণ্ডি বজায় রেখে চলতে পছন্দ করেন। তাই তাঁর নাম জড়িয়ে এই ধরণের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা নেহাতই একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কৌশল হতে পারে।