ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগের অনুরোধ করেছেন সৌরভ? মমতা-সৌরভ যোগসূত্র নিয়ে জল্পনায় মুখ খুললেন মহারাজ!

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজনীতির আঙিনায় নতুন গুঞ্জন। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন, আর সেই বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করেছেন খোদ সৌরভ! সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই দাবিকে ঘিরে শোরগোল পড়তেই অবশেষে মুখ খুললেন মহারাজ।

কী বললেন সৌরভ? এক বিবৃতিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যে’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন। সৌরভ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এই প্রতিবেদনে আমাকে নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তার সঙ্গে দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সত্যতা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ইউসুফকে পদত্যাগ করার কোনো বার্তা দিতে বলেননি, আমিও এমন কোনো বার্তা নিয়ে তাঁর কাছে যাইনি।”

সৌরভ আরও যোগ করেন, “আমি জীবনে কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকিনি। সত্যতা যাচাই না করে এভাবে নাম জড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

কেন এই গুঞ্জন? এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে কোনো সাংবিধানিক পদে নেই। রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে যে, বহরমপুর কেন্দ্রটি মুসলিম প্রধান হওয়ায়, ওই কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে সরিয়ে মমতা সেখানে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় ‘দূত’ হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ব্যবহার করা হয়েছে বলে রটে যায়। তবে সৌরভের এই জোরালো খণ্ডনের পর সেই জল্পনা কিছুটা স্তিমিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার কার্যকালে সৌরভের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল, যা প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসত। তবে ইদানীং সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাঁট এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতির খবরও চর্চায় রয়েছে। সব মিলিয়ে সৌরভের নাম জড়িয়ে এই রাজনৈতিক গুঞ্জন নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছিল।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই স্পষ্টবার্তার পর এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক মহল এই ইস্যুকে কীভাবে গ্রহণ করে।