জলাশয় দখলের অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, সেই তৃণমূল নেতারই মাছের খামারে লুঠ! তোলপাড় উত্তর দমদম

একসময় জলাশয় দখলের অভিযোগ নিয়ে যাঁর নাম বারবার শিরোনামে এসেছে, সেই তৃণমূল নেতা তথা উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের মাছের খামার থেকেই এবার সম্পদ লুঠের অভিযোগ উঠল। বিধায়ক ও মৎস্য ব্যবসায়ী বিধান বিশ্বাসের দাবি, তাঁর একাধিক জলাশয় থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার মাছ চুরি হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।
ঠিক কী অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেতা?
দীর্ঘদিন ধরেই মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিধান বিশ্বাস। তাঁর অভিযোগ, উত্তর দমদমে তাঁর লিজ নেওয়া একাধিক ঝিল ও জলাশয় থেকে দুষ্কৃতীরা মাছ তুলে নিয়ে গিয়েছে। এর ফলে তিনি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিধান বিশ্বাসের কথায়, “আমার শুধু একটা নয়, বহু ঝিল রয়েছে। সব জায়গা থেকেই মাছ লুট করা হয়েছে। প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার উপরে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে আমার।” ইতিমধ্যেই তিনি নিমতা থানায় লিখিত অভিযোগ বা এফআইআর দায়ের করেছেন।
নিজে আক্রান্ত হয়েই মুখ খুললেন নেতা:
অতীতে জলাশয় দখলের অভিযোগ নিয়ে বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। তবে এবার তিনি দাবি করেছেন, তাঁর সমস্ত জলাশয় বৈধভাবে লিজ নেওয়া এবং মালিকদের সঠিক পাওনা মিটিয়েই তিনি ব্যবসা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, “ঝিল লিজ নিয়ে, মালিকদের টাকা দিয়েই আমি ব্যবসা করি। জোর-জুলুম করে কোনো কিছু নেওয়া হয়নি।”
নিজের দলের নেতার মাছের খামারে লুঠের ঘটনা প্রসঙ্গে বিধান বিশ্বাস আরও বলেন, “রাজনীতি থাকলে তা রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুক। কিন্তু কোনো মানুষের পেটে লাথি মারা বা কাউকে অর্থনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা কাম্য নয়। সে যে দলেরই হোক, এমনটা করা উচিত না।”
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন:
তৃণমূল নেতার এই অভিযোগের পর উত্তর দমদম এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। বিরোধীরা একে পুরনো বিতর্কের ‘কর্মফল’ হিসেবে দেখছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে স্থানীয় সূত্রের খবর, এই লুঠের ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দল রয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ ব্যবসায়ী নেতা। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
তবে নিজের খামারে এমন বড়সড় চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে তৃণমূল শিবির। এখন দেখার বিষয়, নিমতা থানার তদন্তে কারা এই মাছ লুঠের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে।