৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের ক্ষমতা! সরকারি কাজের গতি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নবান্নের

প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের আর্থিক অনুমোদনের ক্ষমতা বা আর্থিক সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে এখন থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কী পরিবর্তন এল প্রশাসনিক ক্ষমতায়?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন দফতরকে তাদের প্রয়োজনীয় প্রকল্পের জন্য নিজস্ব সিদ্ধান্তে আর্থিক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে:

৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষমতা: পূর্ত (PWD), সেচ (I&WD), জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE), স্বাস্থ্য, নগরোন্নয়ন সহ মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর এখন থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন সরাসরি দিতে পারবে।

১ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষমতা: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং সুন্দরবন বিষয়ক দফতরকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য দফতর: তালিকায় উল্লেখ নেই এমন বাকি সব দফতরের ক্ষেত্রে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে।

শর্তাবলী ও সতর্কতা:
তবে এই বাড়তি ক্ষমতা পেলেও নিয়মের কড়াকড়ি বজায় রেখেছে নবান্ন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো প্রকল্পের অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার’ বা আর্থিক উপদেষ্টার সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, ওই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ আছে কি না, তা-ও দফতরগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিক প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণের লক্ষ্য নিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পগুলোর কাজও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ রয়েছে। আগে প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সময় প্রকল্পের কাজ থমকে যেত। এই প্রশাসনিক সমন্বয় ও গতি বজায় রাখতেই সরকার আর্থিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনমুখী পরিষেবা যে আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তা বলাই বাহুল্য।