অবশেষে গ্রেফতার শওকত মোল্লা! কামালগাছি থেকে পাকড়াও ভাঙড়ের দাপুটে নেতা!

দীর্ঘ ২ দিনের দীর্ঘ লুকোচুরি ও টানটান নাটকীয়তার অবসান। অবশেষে এনআইএ (NIA)-র জালে ধরা পড়লেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। শুক্রবার সোনারপুরের কামালগাছি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা।

গ্রেফতারির প্রেক্ষাপট:
ভোটের আগে ভাঙড় বিধানসভার চালতাবেড়িয়ার দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার তদন্তভার পাওয়ার পর থেকেই এনআইএ-র নজরে ছিলেন শওকত। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই বিস্ফোরণ কাণ্ডে শওকত মোল্লা অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী।

কীভাবে চলল তল্লাশি?
বৃহস্পতিবার সাতসকালেই শওকতের বাড়িতে হানা দেন এনআইএ আধিকারিকরা। তবে সেই সময় তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এরপরই ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের মোট আটটি জায়গায় শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। গোপন সূত্রে খবর আসে, বাসন্তী হয়ে বাংলাদেশ পালানোর ছক কষছেন এই নেতা। সেইমতো চুনোখালি এবং জাকাড়িয়া সুন্দরবন মাদ্রাসা এলাকায় রাতভর অভিযান চালানো হয়। সীমান্ত যাতে তিনি পার হতে না পারেন, সেজন্য গোটা গ্রাম ঘিরে ফেলা হয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার কামালগাছি থেকে তাঁকে পাকড়াও করেন গোয়েন্দারা।

তদন্তে আর কারা?
প্রসঙ্গত, এই মামলায় এর আগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। তারা হলো— অ্যাম্বুল্যান্স চালক সুরজ মোল্লা, স্থানীয় তৃণমূল নেতা ওহিদুল মোল্লা এবং স্করপিও চালক সায়নুর মোল্লা। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই শওকতের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান গোয়েন্দারা।

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল:
ভাঙড়ের এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এনআইএ-র দাবি, শওকতকে জেরা করলে এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে থাকা বড়সড় কোনো ষড়যন্ত্রের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। এখন দেখার, জেরা থেকে আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।