বোর্ড ভাঙা নিয়ে ধোঁয়াশা তুঙ্গে! কলকাতা পুরসভার অন্দরে কোন আইনি প্যাঁচ?

কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভাঙা এবং নতুন মেয়র নির্বাচন ঘিরে বর্তমানে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য সরকারের পৌর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশের প্রেক্ষিতে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে এক নতুন মোড় দিয়েছে। একদিকে যখন ১৯৮০ সালের কলকাতা পুর আইনের ১১৭(১) ধারা অনুযায়ী বোর্ড ভাঙার তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই আইনের ৩৮ নম্বর ধারা টেনে নতুন আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন চেয়ারপার্সন।

বোর্ড ভাঙার যুক্তি বনাম চেয়ারপার্সনের ব্যাখ্যা:
পৌর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে পুর কমিশনারকে পাঠানো নোটিশে বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। কিন্তু মালা রায়ের পাল্টা দাবি, পুর আইনের ৩৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, মেয়র যদি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন বা ছুটিতে থাকেন, তবে ডেপুটি মেয়র সেই দায়িত্ব সামলাতে পারেন। তাঁর কথায়, “পুরো বোর্ড ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নতুন মেয়র নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ডেপুটি মেয়র দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরে আস্থা ভোটের মাধ্যমে পরবর্তী মেয়র বেছে নেওয়া হবে।”

সংঘাতের পথে পুরসভা ও রাজ্য?
মালা রায়ের এই ব্যাখ্যায় কার্যত জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে বোর্ড ভাঙার পরিকল্পনায়। পরিস্থিতি আরও জটিল করে আগামী ১৯ জুন পুরসভার মাসিক অধিবেশন ডেকেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, চেয়ারপার্সনের এই সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকারের সাথে পুরসভার নজরে আসা সংঘাত চরমে পৌঁছাতে পারে।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া:
পুরসভার এই অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের এক বিধায়ক তথা কাউন্সিলরের সাফ কথা, “মেয়রের পদত্যাগ মানেই বোর্ড ভেঙে যাওয়া। এমআইসি (MIC) না থাকা মানেই বোর্ড কার্যত অকেজো। সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই পুর কমিশনার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।”

এক নজরে অতীত:
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর কলকাতা পুরসভার শাসনভার সামলাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতির জন্য প্রশাসকমণ্ডলী বসানো এবং ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ফিরহাদ হাকিমের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ—পুরসভার ইতিহাসে এই অধ্যায়গুলো বেশ ঘটনাবহুল। এখন ১৯ জুনের অধিবেশন এবং রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা শহর।