কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার শিউরে ওঠা সিসিটিভি ফুটেজ! মৃত ভারতীয়, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধংদেহী মেজাজে কাঁপছে দুনিয়া!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের বারুদের গন্ধ। ৩ জুন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সিসিটিভি (CCTV) ভিডিও প্রকাশ করেছে কুয়েত প্রশাসন। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ (T1)-এর এই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সাধারণ যাত্রী চলাচলের মাঝেই আকস্মিক এক বিশাল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে গোটা টার্মিনাল ভবন। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের দাবি, ইরান থেকে উৎক্ষেপিত একটি আত্মঘাতী ড্রোন এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। যদিও তেহরান এই হামলার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করে উল্টে আমেরিকার দিকেই আঙুল তুলেছে।

ছিন্নভিন্ন টার্মিনাল ১, নিহত এক ভারতীয়সহ আহত বহু
কুয়েতের সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বিমানবন্দর ভবনের একটি বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের এই ঝাঁক টার্মিনাল ১ এবং কূটনৈতিক মিশন চত্বরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হেনেছে। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় নিহত ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া বিস্ফোরণের তীব্রতায় এবং ছিটকে আসা কাঁচের টুকরোয় অন্তত ৬৩ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দোষ ঢাকতে মার্কিন ডিফেন্স সিস্টেমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল ইরান
এদিকে এই হামলার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে সাফাই গেয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। আইআরজিসির একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, তারা কুয়েতের কোনো প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে বা বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালায়নি। ইরানের পাল্টা দাবি, বিমানবন্দরের এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি আসলে মার্কিন প্যাট্রিয়ট (Patriot) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়ে থাকতে পারে। তেহরানের মতে, কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পাল্টা যে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ছুড়েছিল, সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিজেদের বিমানবন্দর টার্মিনালেই গিয়ে আছড়ে পড়েছে।

আমেরিকা-ইরান সংঘাত চরমে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ
এই আন্তর্জাতিক সংকটটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ওমান উপসাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) সদর দপ্তরও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (Pentagon) ইরানের এই দাবি স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটির দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভেদ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং বেশিরভাগ মিসাইল পথেই বিকল হয়ে গেছে। কিন্তু কুয়েত সরকারের প্রকাশ করা এই সিসিটিভি ফুটেজ এখন ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, যা দুই দেশের যুদ্ধবিরতির আবহকে এক ধাক্কায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।