AI-এর দাপটে ঝুঁকিতে ইলেকট্রিশিয়ান-প্লাম্বারদের চাকরি, জেনেনিন কেন?

একসময় যা ছিল কেবলই কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশনের গল্প, আজ তা-ই বাস্তব। প্রযুক্তির রকেট গতির অগ্রযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এখন আমাদের ড্রয়িংরুম থেকে অফিস—সব জায়গাতেই থাবা বসিয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক চরম ওলটপালট। বিশেষজ্ঞরা প্রথম থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে এআই-এর কারণে বহু মানুষ কাজ হারাতে পারেন। তবে আশার আলো দেখিয়ে তাঁরা এ-ও বলেছিলেন, তৈরি হবে নতুন নতুন কাজের সুযোগ।
কিন্তু সম্প্রতি আইটি জায়ান্ট কগনিজেন্ট (Cognizant)-এর প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআই-এর প্রভাব আমরা যতটা ধীরগতির ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বহুগুণ দ্রুত গতিতে আছড়ে পড়েছে। যে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বা রূপান্তর ঘটতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তা বাস্তবে মাত্র ৩ বছরেরও কম সময়ে আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে গেছে!
🚫 “ভবিষ্যতের বাজারে কেউই নিরাপদ নয়!”
কগনিজেন্ট-এর প্রধান গবেষক ওলি ও’ডোনোঘুয়ে (Oly O’Donoghue) এক বিস্ফোরক ও উদ্বেগজনক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে কাউকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বা ‘হুমকিমুক্ত’ বলা যাবে না। এতদিন ধারণা করা হতো, কেবল কম্পিউটার বা ডেস্কে বসে কাজ করা আইটি কর্মী, লেখক বা গ্রাফিক ডিজাইনারদের চাকরিই ঝুঁকির মুখে। কিন্তু ও’ডোনোঘুয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার বা এই ধরনের কায়িক ও কারিগরি পেশাজীবীদেরও এবার নতুন এবং কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
🔧 কাজ থাকবে, কিন্তু বদলে যাবে কাজের ধরন!
কগনিজেন্টের রিপোর্ট বলছে, এই কারিগরি পেশাগুলো সমাজ থেকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে না, কারণ রোবট এসে এখনই পাইপলাইন ঠিক করতে পারবে না। তবে কাজের আসল নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে এআই-এর হাতে:
-
প্লাম্বিং সেক্টর: পাইপ মেরামত বা যন্ত্রাংশ বসানোর মতো শারীরিক কাজ হয়তো মানুষই করবে। কিন্তু মাটির নিচে বা দেওয়ালের কোথায় সমস্যা রয়েছে (Diagnosis), তার সম্ভাব্য সমাধান কী হবে, এবং আগামী দিনে কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত—তার নিখুঁত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে দেবে এআই।
-
ইলেকট্রিক্যাল সেক্টর: ঘরের ওয়্যারিং বা কোনো জটিল মেশিনের ত্রুটি শনাক্তকরণ, সেফটি অ্যানালিসিস এবং মেরামতের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা তৈরির মতো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজগুলো ক্রমশ এআই-নির্ভর হয়ে উঠবে।
কগনিজেন্ট রিপোর্টের মূল নির্যাস:
প্রত্যাশিত সময়: ১০ বছর ⏳
বাস্তব টাইমলাইন: ৩ বছরেরও কম! ⚡
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: শুধু হাতে-কলমে দক্ষ হলে চলবে না, জানতে হবে AI টুলের ব্যবহার।
🛡️ টিকে থাকার একমাত্র মন্ত্র: ‘স্কিল আপগ্রেড’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিলতে সময়ে দাঁড়িয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে যদি নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে দক্ষতার ধারাবাহিক উন্নয়নই (Up-skilling) হবে মানুষের একমাত্র অস্ত্র। এআই হয়তো মানুষের খাটুনি অনেক কমিয়ে দেবে, কিন্তু সেই প্রযুক্তিকে মাঠে নেমে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে একজন দক্ষ ও এআই-সচেতন মানুষের প্রয়োজন থেকেই যাবে।
💡 সম্পাদকের শেষ কথা:
সময় এসেছে চেনা খোলস থেকে বেরিয়ে আসার। আপনি যে পেশাতেই থাকুন না কেন, প্রযুক্তির এই সুনামি থেকে বাঁচার একটাই পথ—এআই-কে শত্রু না ভেবে নিজের সহকারী বানিয়ে নেওয়া। হাতুড়ি-শাবল চালনোর পাশাপাশি আজ থেকেই একটু একটু করে রপ্ত করতে হবে ডিজিটাল টুলসের ব্যবহার, নচেৎ প্রতিযোগিতার এই বাজারে ছিটকে যাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা!