জুন থেকেই পকেটে বড় কোপ! স্কুল বাসের ভাড়া বাড়ছে ১৫%, পরিস্থিতি সামলাতে সপ্তাহে ২ দিন অনলাইন ক্লাসের অদ্ভুত প্রস্তাব!

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়তে চলেছেন মহারাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ অভিভাবক। লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের দোহাই দিয়ে আগামী জুন মাস থেকেই স্কুল বাসের মাসিক ভাড়া ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে স্কুল বাস মালিক সমিতি। রাজ্য সরকার এবং বাস অপারেটরদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ার পরেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ!
বাস মালিকদের এই একতরফা সিদ্ধান্তের জেরে মুম্বাই, পুনেসহ সমগ্র মহারাষ্ট্র জুড়ে স্কুলপড়ুয়াদের অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপতে চলেছে। হিসাব কষে দেখা গেছে, এই ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির ফলে অভিভাবকদের প্রতি মাসে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত পকেটের কড়ি খসাতে হবে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে যা বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পড়াশোনায় ‘হাইব্রিড মডেল’ ও ২ দিন অনলাইন ক্লাসের আজব প্রস্তাব!
স্কুল বাস পরিচালনাকারীদের দাবি, বাজারে ডিজেলের আকাশছোঁয়া মূল্য এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে পুরোনো ভাড়ায় বাস চালানো আর কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে যাতায়াত খরচের বোঝা কমাতে স্কুল বাস মালিক সমিতি রাজ্য সরকার এবং পরিবহন বিভাগের কাছে একটি অভিনব ‘হাইব্রিড মডেল’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল।
সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে দুই দিন অনলাইনে (Online) এবং বাকি তিন দিন অফলাইনে (Offline) বা স্কুলে গিয়ে ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যাতে স্কুল বাসের খরচ অনেকটাই কমানো যায়। তবে শিক্ষা দফতর ও সরকারের পক্ষ থেকে এই ডিজিটাল ক্লাসের প্রস্তাবে কোনো সবুজ সঙ্কেত বা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
৪০ হাজারেরও বেশি স্কুল বাস ও হাজারো খরচের খতিয়ান
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুম্বাইসহ সমগ্র রাজ্য জুড়ে প্রায় ৪০,০০০-এরও বেশি স্কুল বাস প্রতিদিন কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীকে যাতায়াতের পরিষেবা দিয়ে থাকে। ফলে এই ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুল বাস পরিচালনাকারীরা ভাড়া বাড়ানোর পেছনে একাধিক কারণের লম্বা তালিকা পেশ করেছেন—
ডিজেলের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্য এবং টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি।
যানবাহনের যন্ত্রাংশ, টায়ার ও অন্যান্য সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি।
ফিটনেস সার্টিফিকেট, পারমিট, লাইসেন্স নবায়ন এবং বীমার (Insurance) চড়া প্রিমিয়াম।
চালক ও খালাসিদের বেতন বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক পুলিশের ই-চালানের জরিমানা।
সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করল বাস মালিক সমিতি
স্কুল বাস মালিক সমিতির সভাপতি অনিল গার্গ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, স্কুল বাসের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া, ডিজেলের ওপর থেকে ভ্যাট (VAT) মকুব করা কিংবা হাইব্রিড স্কুল মডেলের মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই সরকার বিন্দুমাত্র আন্তরিকতা দেখায়নি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রাজ্য সরকারের এই চরম নিষ্ক্রিয়তা এবং উদাসীনতাই আমাদের ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়াতে বাধ্য করেছে। আমরা প্রশাসনের সাথে বসে একাধিকবার সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে ব্যর্থ হয়েছে।” সরকারের এই ব্যর্থতার খেসারত শেষ পর্যন্ত সাধারণ অভিভাবকদেরই দিতে হচ্ছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছে।