খেলাধুলো ছেড়ে কাঁধে দুই পরিবারের অন্নসংস্থান, খালের জলে ভাসল পাঞ্জাবের বিখ্যাত কাবাডি তারকার নিথর দেহ!

পাঞ্জাবের ক্রীড়ামহলে ফের একবার শোকের ছায়া। বারনালা জেলায় প্রখ্যাত কাবাডি খেলোয়াড় প্রগত সিং ওরফে বাগ্গাদের সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ধানৌলা-বারনালা সড়কের পাশে একটি খাল থেকে এই আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি স্থানীয় হরিগড় গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

খালের পাড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বাইক, সন্দেহ হতেই চক্ষু চড়কগাছ স্থানীয়দের
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধানৌলা থানা এলাকার মানান পিন্ডি-বার্নালা রোডে অবস্থিত মেরিল্যান্ড রিসোর্টের কাছে খালের তীরে একটি মোটরসাইকেল দীর্ঘক্ষণ ধরে পার্ক করা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও মোটরসাইকেলটি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তালবিন্দর সিং নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার মনে খটকা লাগে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সন্দেহ হওয়ায় তিনি খালের দিকে এগিয়ে যান এবং উঁকি দিতেই দেখতে পান জলের ওপর এক যুবকের দেহ ভাসছে। তিনি মুহূর্তের মধ্যে পুলিশে খবর দেন।

দুই পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তীব্র আর্থিক সংকট ও মানসিক অবসাদ
ঘটনার খবর পেয়েই ধানৌলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিজনরা দেহটি কাবাডি খেলোয়াড় প্রগত সিং ওরফে বাগ্গাদের বলে শনাক্ত করেন।

গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রগত সিংয়ের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। প্রায় দুই বছর আগে তাঁর বড় ভাই সুখবিন্দর সিংয়ের আকস্মিক মৃত্যু হয়। ভাইয়ের মৃত্যুর পর প্রগতর নিজের পরিবার এবং প্রয়াত ভাইয়ের পরিবার— দুই পরিবারেরই সমস্ত আর্থিক ও সামাজিক দায়িত্ব প্রগতর কাঁধে এসে পড়ে। গ্রামবাসীদের দাবি, একদিকে তীব্র অর্থকষ্ট এবং অন্যদিকে দুই পরিবারের বিশাল দায়িত্ব একাই সামলাতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এই কাবাডি তারকা।

আইনি পদক্ষেপ নিতে নারাজ শোকস্তব্ধ পরিবার
মৃত্যুকালে প্রগত সিং তাঁর স্ত্রী ও দুটি নিষ্পাপ সন্তানকে রেখে গেছেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে পরিবারটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ধানৌলা থানার হেড ক্লার্ক গুরবিন্দর সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পুলিশ নিয়ম মেনে মরদেহটি হেফাজতে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত শুরু করেছিল। তবে মৃতের পরিবার এই ঘটনায় কোনো ধরণের আইনি পদক্ষেপ নিতে বা তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করায়, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দেহটি সৎকার করার জন্য তাঁদের হাতেই হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের এক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়ের এমন করুণ পরিণতিতে শোকস্তব্ধ পাঞ্জাবের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ।