সেনা হেলিকপ্টারের সামনেই হাঁটু গেড়ে বিয়ের প্রস্তাব! ভাইরাল হতেই তরুণ ক্যাপ্টেনের ওপর কেন চটল ভারতীয় সেনা?

সদ্যই শেষ হয়েছিল কঠিন আর্মি এভিয়েশন প্রশিক্ষণ। পাইলট হওয়ার সেই গৌরবময় মুহূর্তটিকে জীবনের অন্যতম সেরা দিন করে রাখতে চেয়েছিলেন তরুণ সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ভরত ভরদ্বাজ। তাই প্রশিক্ষণ শেষের পাসিং আউট প্যারেডের পরেই, মহারাষ্ট্রের নাসিকের সেনা ঘাঁটিতে দাঁড়িয়েই নিজের বাগদত্তা আরুশিকে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। ব্যাকগ্রাউন্ডে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার। কিন্তু জীবনের সেই পরম রোমান্টিক মুহূর্তই এখন ওই সেনা অফিসারের কেরিয়ারকে বড়সড় বিপাকের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হতেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
কী ঘটেছিল সেই পাসিং আউট প্যারেডের দিনে?
ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং ছবিতে দেখা গেছে, ক্যাপ্টেন ভরত ভরদ্বাজ তাঁর এভিয়েশন প্রশিক্ষণের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষ হতেই প্রেমিকা আরুশিকে হাত ধরে অনুষ্ঠানস্থলের রানওয়ের দিকে নিয়ে যান। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সেনা হেলিকপ্টারের সামনে গিয়ে হুট করেই এক হাঁটু গেড়ে বসে আরুশির আঙুলে আংটি পরিয়ে দেন।
এই সারপ্রাইজে আপ্লুত আরুশিও সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি জানান। সেখানে উপস্থিত ভরত ও আরুশির পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং অন্যান্য সেনা কর্মকর্তারা হাততালি ও উল্লাসে ফেটে পড়েন। এরপরই হেলিকপ্টারের সামনে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এই যুগল। এই হৃদয়স্পর্শী ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই লাইক ও কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু এই ‘রিল লাইফ’ রোম্যান্সই ‘রিয়েল লাইফে’ ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়াল।
সেনাবাহিনীর নিয়ম ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও সেনা সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণ সেনা কর্মকর্তা আবেগতাড়িত হয়ে বেশ কয়েকটি কঠোর সামরিক নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করেছেন। আর এই কারণেই তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং তাঁর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
সেনাবাহেন্দুর শীর্ষ কর্তাদের মতে, একজন সেনা কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গিনীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেই পারেন, সেই ইচ্ছাকে সেনাবাহিনী সবসময় সাধুবাদ জানায়। কিন্তু এই উদ্যোগের জন্য যে সময় এবং স্থান বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত এবং প্রোটোকল বিরোধী। হাই-সিকিউরিটি জোন বা রানওয়েতে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও তোলার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সামরিক সম্পদ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া নির্দেশিকা
সেনা আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো অফিসার বা জওয়ানের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট বা রিল বানানোর জন্য সেনাবাহিনীর প্রোটোকল, যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং সামরিক সম্পদ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশিকা রয়েছে।
অবশ্য ক্যাপ্টেন ভরত ভরদ্বাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বা কোনো দেশবিরোধী গুরুতর অপরাধ করেননি, তাই তাঁর বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে বড় কোনো শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে সেনাবাহিনীর নিয়মনীতি, প্রোটোকল, একজন সেনা অফিসারের দায়িত্বশীল আচরণ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তাঁকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁকে ভারতীয় সেনার নিয়মনীতি সম্পর্কে পুনর্প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি বর্তমানে নেট দুনিয়ায় যেমন চর্চায় রয়েছে, তেমনই সেনার অন্দরেও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।