গাড়ি কেনার আগে লুকানো ৫ খরচ না জানলে বিপদে পড়তে পারেন, জেনেনিন একনজরে

নিজের একটি গাড়ি কেনার স্বপ্ন কম-বেশি সবারই থাকে। শোরুমে গিয়ে সাধের গাড়িটি বেছে নেওয়া থেকে শুরু করে চকচকে চাবিটি হাতে পাওয়ার মুহূর্তটি অত্যন্ত আনন্দের। কিন্তু এই আনন্দের আতিশয্যেই অনেক ক্রেতা একটি মস্ত বড় ভুল করে বসেন। অধিকাংশ মানুষই কেবল গাড়ির শোরুম প্রাইস (Ex-showroom) বা অন-রোড প্রাইস (On-road Price) এবং প্রতি মাসের ইএমআই (EMI) হিসাব করে বাজেট চূড়ান্ত করে ফেলেন।

কিন্তু এখানেই লুকিয়ে রয়েছে আসল ফাঁদ! গাড়ি কেনার পর তার মালিকানা বজায় রাখতে প্রতি মাসে এবং প্রতি বছর এমন কিছু আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হয়, যা আগে থেকে মাথায় না রাখলে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়তে বাধ্য। গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে যেন পরে ‘বোঝা’ মনে না হয়, সেজন্য বাজেট করার সময় নিচে উল্লিখিত ৫টি নিয়মিত খরচের হিসাব অবশ্যই যুক্ত করুন:

১. জ্বালানি ও বিমার (Insurance) নিয়মিত ধাক্কা

গাড়ি রাস্তায় নামালেই প্রথম যে খরচটি নিয়মিত তাড়া করবে, তা হলো জ্বালানি। পেট্রোল বা ডিজেলের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে আপনার দৈনন্দিন যাতায়াত যত বেশি হবে, ফুয়েল বা জ্বালানি বাবদ মাসিক খরচও তত লাফিয়ে বাড়বে। এর পাশাপাশি রয়েছে গাড়ির ইন্সুরেন্স বা বিমা। প্রতি বছর এই বিমা নবায়ন (Renew) করতে হয়। গাড়ির মডেল, ইঞ্জিন ক্ষমতা ও কভারেজ অনুযায়ী এই প্রিমিয়ামের অঙ্কটা বেশ বড় হতে পারে, যা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে একবারে পকেট থেকে বেরিয়ে যায়।

২. সার্ভিসিং ও পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়

একটি গাড়িকে দীর্ঘদিন সচল ও নতুনের মতো রাখতে নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। নির্দিষ্ট কিলোমিটার চলার পর পর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, ফিল্টার বদলানো, ব্রেক চেক-আপ এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল পরীক্ষার পেছনে নির্দিষ্ট সময় পরপর খরচ করতে হয়। এই রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা করলে পরবর্তীতে ইঞ্জিনের বড় কোনো পার্টস বিকল হয়ে খরচ দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

৩. টায়ার পরিবর্তনের মোটা অঙ্কের খরচ

গাড়ি কেনার বাজেটে অনেকেই এই বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। কিন্তু মনে রাখবেন, টায়ার চিরস্থায়ী নয়। নির্দিষ্ট সময় বা কয়েক হাজার কিলোমিটার চলার পর টায়ার ক্ষয়ে যায় এবং তা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। বর্তমান বাজারে একসঙ্গে চারটি নতুন ভালো মানের টায়ার কিনতে গেলে এক ধাক্কায় মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়, যা মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটকে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

৪. পার্কিং এবং টোল ট্যাক্সের ঝক্কি

শহুরে জীবনে গাড়ি রাখার জায়গা বা পার্কিং একটি বড় ব্যয়বহুল বিষয়। আপনার নিজের বাড়ি বা অফিসে যদি নির্দিষ্ট পার্কিং স্পেস না থাকে, তবে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের পার্কিং ফি গুনতে হবে। এছাড়াও শপিং মল, রেস্তোরাঁ বা বাণিজ্যিক এলাকায় গাড়ি রাখলেও প্রতি ঘণ্টার হিসেবে পার্কিং চার্জ দিতে হয়। এর পাশাপাশি হাইওয়ে বা দূরপাল্লার যাত্রায় নিয়মিত যোগ হয় টোল ট্যাক্স।

৫. আকস্মিক মেরামত ও পার্টস পরিবর্তনের ধকল

গাড়ি মূলত একটি জটিল যান্ত্রিক ডিভাইস। ফলে যেকোনো মুহূর্তে এর ব্যাটারি নষ্ট হওয়া, ব্রেক প্যাড ক্ষয় হওয়া, এসি বা ইলেকট্রনিক সেন্সর বিকল হওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দিতেই পারে। বিশেষ করে গাড়ির ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই ধরনের জরুরি ও আকস্মিক মেরামতের খরচ পুরোপুরি নিজের পকেট থেকেই মেটাতে হয়।

সম্পাদকের পরামর্শ: গাড়ি কেনা কেবল একটি ওয়ান-টাইম ইনভেস্টমেন্ট বা এককালীন খরচ নয়। এটি একটি চলমান জীবনযাত্রার খরচ। তাই শোরুমে যাওয়ার আগে গাড়ির মূল দামের পাশাপাশি এই ৫টি আনুষঙ্গিক খরচের জন্য একটি ব্যাক-আপ ফান্ড তৈরি রাখুন। সঠিক পরিকল্পনাই আপনার গাড়ির মালিকানার অভিজ্ঞতাকে করতে পারে আরামদায়ক ও উপভোগ্য।