ত্রিপুরায় কৃষি বিপ্লব! প্রথমবারের মতো সফল আঙুর চাষ, বদলে যেতে চলেছে রাজ্যের ভাগ্য

উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষি মানচিত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল ত্রিপুরা। দীর্ঘদিনের গবেষণা ও অধ্যাবসায়ের পর রাজ্যে প্রথমবারের মতো সফলভাবে মিষ্টি আঙুর উৎপাদন করে নজির গড়লেন ত্রিপুরার কৃষকরা। উনকোটি জেলার চণ্ডীপুরে এই সাফল্যের হাত ধরে রাজ্যে বাণিজ্যিক ফলচাষের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
সাফল্যের পেছনের কথা:
২০২৪ সালে উনকোটির কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (KVK) এবং আইসিএআর (ICAR)-এর ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর গ্রেপস-এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় এই গবেষণা। পুনে থেকে নিয়ে আসা ছয়টি জাতের আঙুর রোপণ করা হয়েছিল পরীক্ষামূলকভাবে। মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এর মধ্যে চারটি জাতই সফল হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ওয়াইন উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
চ্যালেঞ্জ জয়ই মূল লক্ষ্য:
ত্রিপুরার আবহাওয়া অর্থাৎ উচ্চ আর্দ্রতা ও অতিবৃষ্টি আঙুর চাষের প্রধান অন্তরায়। কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রোথ রেগুলেটরের ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
রাজ্য সরকারের এই কৃষি বৈচিত্র্যকরণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের আয়ের স্থায়ী উৎস তৈরি করা। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
১৮টি নতুন জাত: আরও ১৮টি উন্নত জাতের আঙুরের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হতে চলেছে।
প্রশিক্ষণ ও সহায়তা: কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং ক্লাস্টারভিত্তিক বাগান স্থাপনে সহায়তা।
জুস প্রক্রিয়াকরণ: আঙুরের রস ও রেডি-টু-সার্ভ (RTS) পানীয় উৎপাদনের জন্য ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা।
অর্থনৈতিক প্রভাব:
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড় ও সমতল ভূমির সমন্বয় আঙুর চাষের জন্য ভবিষ্যতে একটি বড় হাব হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই চাষ সম্প্রসারিত হলে রাজ্যের অর্থনীতিতে যেমন গতি আসবে, তেমনই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
চণ্ডীপুরের এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রতন লাল নাথের পাশাপাশি মন্ত্রী টিংকু রায় এবং উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে উন্নত কৃষিযন্ত্র তুলে দেন। এখন দেখার, সরকারের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ত্রিপুরার কৃষকদের জীবনযাত্রায় কতটা আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।