৬ জুন দিল্লির রাজপথে বড় বিক্ষোভের ডাক! নিট-এসএসসি বিতর্ক নিয়ে সরগরম রাজনীতি

সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং চূড়ান্ত অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল দেশ। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আগামী ৬ জুন, বৃহস্পতিবার এই ইস্যুকে সামনে রেখে দিল্লিতে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এই অ-রাজনৈতিক সংগঠন।

আন্দোলনের নেপথ্যে কী?
নিট (NEET), এসএসসি (SSC) এবং সিবিএসই (CBSE)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র দাবি, এই জালিয়াতির ফলে লক্ষ লক্ষ মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দলের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যে ৮ লক্ষ মানুষ পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন, কিন্তু মন্ত্রকের তরফে এখনও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

কারা এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’?
বিচারপতি সূর্য কান্ত কর্তৃক বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে শুরু হয়েছিল এই অনলাইন প্রচার। ব্যঙ্গাত্মক পথচলা শুরু হলেও, আজ এটি দেশের বৃহত্তম ‘সিস্টেম-বিরোধী’ তরুণ আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এদের অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

৬ জুনের কর্মসূচি:
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এই বিক্ষোভে অংশ নিতে বোস্টন থেকে দিল্লি আসছেন। দলের ঘোষণা অনুযায়ী:

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত মিছিল হবে।

যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হবে।

এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন বিখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

কী বলছেন মুখপাত্ররা?
সাংবাদিক বৈঠকে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস, বিজেতা দাহিয়া এবং আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আন্দোলন নয়, বরং এটি দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণের লড়াই। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “আমরা আইন ও সংবিধান মেনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি চাইছি। দিল্লি পুলিশ আমাদের আবেদন ইতিবাচকভাবে দেখবে বলে আশা রাখি।” পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও, আন্দোলন কোনোভাবেই থমকে থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিজেতা দাহিয়া।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন:
বিক্ষোভকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মুখপাত্ররা সাফ জানিয়েছেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক ও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। তাঁরা প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ও তরুণদের এই ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের জেরে আগামী ৬ জুনের দিল্লি কর্মসূচি দেশীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।