তৃণমূলের অন্দরে কি চূড়ান্ত ভাঙন? অভিষেককে হঠাতে লোকসভায় বড় ছক!

রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড়ো পরিবর্তনের ইঙ্গিত! তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অস্থিরতা এখন আর গোপন নেই। দলের ভেতর ভাঙন যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তৃণমূলের এককালের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার প্রক্রিয়া নাকি শুরু হয়ে গেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে একাধিক সাংসদের দূরত্ব তৈরি হওয়ায় জল্পনা তুঙ্গে।

বিধানসভায় ঋতব্রতর রণমূর্তি বিধানসভার পরিস্থিতি আরও জটিল। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। খোদ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর একের পর এক আক্রমণ শাসকদলে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে লোকসভায় তৃণমূলের ভাঙন সামলাতে বা নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম জোরকদমে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যসভায় সুখেন্দুশেখর রায়ের অবস্থান নিয়েও দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে রহস্য।

সাংসদদের পারস্পরিক বিরোধে বিপাকে দল দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মধ্যকার মতবিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, বিষয়টি নিয়ে লোকসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন কাকলি। এখন প্রশ্ন উঠছে, চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অন্য সাংসদরাও কি একই বিদ্রোহী পথে হাঁটবেন?

দিল্লির চাপ ও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুধু ঘরোয়া কোন্দল নয়, দিল্লিতেও তৃণমূলের বিপদ বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকার ‘ডিলিমিটেশন বিল’ এবং ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ সংক্রান্ত বিল নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দল এখন থেকেই আইনি পরামর্শ নিতে শুরু করেছে। স্পিকারের ভূমিকার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখার পাশাপাশি, প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে তৃণমূল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের শেষ কোথায় তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও এনসিপি মামলার আইনি নজিরের ওপর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর এবং ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে শীর্ষ আইনজীবীদের সাথে তাঁর আলোচনা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।