‘সবাই ৬০-এর অংশ’! মমতার দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক বাবুল সুপ্রিয়, রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কি ফের অস্বস্তি? বুধবার গভীর রাতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা বাবুল সুপ্রিয়র একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তাঁর এই ‘ব্যক্তিগত’ মন্তব্যকে ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক চর্চা।
দলবদলু নেতাদের প্রতি কঠোর বার্তা
নিজের ফেসবুক পোস্টে বাবুল সুপ্রিয় নাম না করেই দলবদলু জনপ্রতিনিধিদের নিশানা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক ও সংগঠনের সমর্থনে জেতার পর দল পরিবর্তন করলে সেই সাংসদ বা বিধায়কের নৈতিক দায়িত্ব হলো পদত্যাগ করা। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, “বিজেপি ছাড়ার সময় আমি শুধু দলই ছাড়িনি, সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলাম।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক আদর্শ বদলানো গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, নৈতিকতা বজায় রাখতে পদত্যাগ করা উচিত যাতে ভোটারদের সম্মান বজায় থাকে।
মমতার ‘দুর্নীতিবিরোধী’ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
পোস্টের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে বাবুলের পর্যবেক্ষণ। তিনি লিখেছেন, “ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যদি নেত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর এবং আপসহীন অবস্থান নিতেন, তবে আজকের পরিস্থিতি হয়তো অন্যরকম হতে পারত।” যদিও এটি তাঁর ব্যক্তিগত মত বলে দাবি করেছেন বাবুল, তবুও তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রহস্যময় ‘৬০’ তত্ত্ব ও জল্পনা
সবচেয়ে রহস্যময় বিষয় হলো বাবুলের পোস্টে ব্যবহৃত ‘৬০’ শব্দবন্ধটি। তিনি লিখেছেন, “অতীতে যাঁদের নিয়ে বিতর্ক ছিল, তাঁরা এখন তথাকথিত ‘৬০’-এর অংশ।” তিনি আরও যোগ করেন, সেই সময়ের অনেকে পরাজিত হয়েছেন, আবার অনেকে রয়েছেন কারাগারে। কিন্তু ‘৬০’ বলতে তিনি ঠিক কাকে বা কোন গোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করেছেন, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধীদের একাংশ এটিকে তৃণমূলের অন্দরের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের’ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
‘সময়ই উত্তর দেবে’
নিজের বক্তব্যের শেষে বাবুল কোনো স্পষ্ট উপসংহার না টেনে লিখেছেন, “সময়ই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে।” সরাসরি আক্রমণ না করলেও বাবুলের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এই পোস্ট নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বাবুলের এই ‘অস্বস্তিকর’ পোস্ট আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কোনো নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।