সোনা কি বিক্রি করছে RBI? ১২ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা!

দেশের অর্থনীতি ও টাকার (রুপি) মান নিয়ে তৈরি হওয়া চাপের আবহে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ‘ব্লুমবার্গ’-এর একটি অর্থনৈতিক বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, গত মে মাসে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সম্ভবত তাদের বিশাল স্বর্ণভাণ্ডারের একটি বড় অংশ বিক্রি করেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ব্লুমবার্গ রিপোর্টে কী দাবি করা হয়েছে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২২ মে শেষ হওয়া দুই সপ্তাহে আরবিআই প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনার রিজার্ভ বিক্রি করে থাকতে পারে। যদিও এই খবর সরকারিভাবে নিশ্চিত করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। তবুও অর্থনীতির মহলে এই সম্ভাব্য পদক্ষেপটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেন এই জল্পনা?
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে (Forex Reserve) বেশ কিছুটা টান পড়েছে। মে মাসের শেষ নাগাদ এই রিজার্ভ বিগত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। এই পতনের নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে:
১. বিদেশি মুদ্রা সম্পদের পরিমাণ হ্রাস।
২. সোনার মজুতের বাজারমূল্যে পরিবর্তন।
টাকার মান রক্ষার কৌশল?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামসহ বিভিন্ন কারণে ভারতীয় টাকার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় টাকার দামকে স্থিতিশীল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারকে বড় ধাক্কার হাত থেকে রক্ষা করতেই আরবিআই এই ‘কৌশলগত সোনা বিক্রি’র পথ বেছে নিতে পারে।
অতীতের স্মৃতি:
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে আর্থিক সংকটের সময় ভারত তার স্বর্ণভাণ্ডারের একটি অংশ বিদেশে পাঠিয়েছিল। সেবার ৪৭ টন সোনা ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডে এবং পরবর্তীতে ২০ টন সোনা সুইৎজারল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের সেই ঘটনার তুলনা টেনে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আরবিআই-এর অবস্থান কী?
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এখন পর্যন্ত সোনা বিক্রির বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের সোনার মজুতের একটি বড় অংশ দেশের ভেতরেই সুরক্ষিত রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
এখন নজর কোথায়?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সত্যি এই সোনা বিক্রির ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সেটি ভারতের মুদ্রানীতির একটি বড় পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক যদি এ বিষয়ে স্বচ্ছ কোনো অবস্থান গ্রহণ করে বা ব্যাখ্যা দেয়, তবেই পরিস্থিতির আসল ছবিটা স্পষ্ট হবে।