বিরোধী বিধায়কদের ফোন তুলতে হবে পুলিশকে! নবান্ন বৈঠক শেষে বড় দাবি কুণাল ঘোষের

নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে বিরোধীদের নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ধারাই বজায় রেখে মঙ্গলবার নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী বিধায়করাও। সরকার ও বিরোধীর এই সহাবস্থান বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৈঠকে কী চাইলেন কুণাল ঘোষ?
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ গঠনমূলক আলোচনার কথাই তুলে ধরেন। তিনি জানান, “পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে বেলেঘাটার সুভাষ সরোবর এবং স্থানীয় হাসপাতালের উন্নতির বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি।” একই সঙ্গে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ জানান, এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ বা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে হুটহাট পদক্ষেপ না নিয়ে যেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা হয়।
পুলিশকে ফোন ধরার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো পুলিশের আচরণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বার্তা। কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, বিরোধী দলের বিধায়কদের ফোন যেন পুলিশ আধিকারিকরা অবশ্যই ধরেন। কুণালের কথায়, “বিরোধীদের ধরপাকড় বা যেকোনো বিষয়ে পুলিশ যেন সাধারণ ফোনে বিধায়কদের সাথে যোগাযোগ রাখে এবং তাদের বক্তব্য বা পুলিশের বক্তব্য যেন একে অপরের কাছে পৌঁছায়। ফোন ধরলেই যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনটা নয়।”
প্রশাসনিক সম্পর্কের নয়া সমীকরণ
রাজ্যের বিরোধী বিধায়কদের প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এবং পুলিশকে তাদের প্রতি সহনশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া—মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘গণতান্ত্রিক প্রথার নতুন দৃষ্টান্ত’ হিসেবেই দেখছেন। উন্নয়নের স্বার্থে শাসক ও বিরোধীর এই প্রশাসনিক মেলবন্ধন আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।