কুলটির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! ক্যাবিনেট মন্ত্রী হলেন ডাক্তার অজয় পোদ্দার, খুশির জোয়ার শিল্পাঞ্চলে

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ৯টির মধ্যে ৯টি আসনেই পদ্মফুলের জয়জয়কার। এই ঐতিহাসিক ফলাফলের উপহার হিসেবে জেলা পেল দ্বিতীয় পূর্ণমন্ত্রী। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল আগেই গুরুত্বপূর্ণ দুই দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার সোমবার লোকভবনে আয়োজিত মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ অনুষ্ঠানে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন কুলটির দুবারের বিধায়ক, প্রবীণ চিকিৎসক ডা. অজয় কুমার পোদ্দার।

কুলটির খরা কাটল ডা. পোদ্দারের হাত ধরে
রাজনৈতিক ইতিহাসে কুলটি থেকে এর আগে একাধিক হেভিওয়েট নেতা বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হলেও, এই অঞ্চলটি এতদিন মন্ত্রিত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত ছিল। ডাক্তার পোদ্দারের এই সাফল্যে সেই দীর্ঘদিনের খরা কাটল, যা কুলটিবাসীর কাছে এক বড় প্রাপ্তি।

কে এই ডা. অজয় কুমার পোদ্দার?
৬৮ বছর বয়সী নতুন মন্ত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল বেশ বর্ণময়:

রাজনৈতিক সফর: ১৯৭২ সাল থেকে আরএসএস-এর সাথে যুক্ত। পরবর্তীতে জনসংঘের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: পেশায় তিনি একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক। ১৯৯২ সালে রাঁচি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

নির্বাচনী সাফল্য: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ ঘটককে ২৬,৪৯৮ ভোটে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য জয়ী হন।

কী বললেন নতুন মন্ত্রী?
শপথ নেওয়ার পর ডা. পোদ্দার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “জনসংঘের সময় থেকেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন ছিল বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। কুলটিসহ সমগ্র শিল্পাঞ্চলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”

কোন দপ্তরে নজর?
যদিও সরকারিভাবে এখনো দপ্তরের নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে যে, ডা. অজয় কুমার পোদ্দার হয়তো রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প অথবা শ্রম দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব সামলাতে পারেন।

শিল্পাঞ্চলের মানুষ এখন তাকিয়ে আছেন, ডাক্তার থেকে মন্ত্রী হওয়া এই জনপ্রতিনিধি কীভাবে এলাকার অর্থনীতি ও শিল্পক্ষেত্রে নতুন মোড় আনতে পারেন, তার অপেক্ষায়।