বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ঋতব্রতর! রাতে ঘরে এল শওকত মোল্লা, অস্বস্তিতে তৃণমূল

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসার পরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব যেন বহুগুণ বেড়ে গেল। একদিকে তিনি যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন, অন্যদিকে তাঁর কাছে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতাদের লাইন লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার রাতে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছান তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা শওকত মোল্লা।
বিধানসভায় ‘গোপন’ বৈঠক ও জল্পনা
সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতার ঘরে ঋতব্রত ও শওকতের মধ্যে দীর্ঘ ১০ মিনিট আলোচনা হয়। রাজ্য রাজনীতির বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিই ছিল এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শওকত মোল্লাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে ভাঙড়ে পাঠানো হয়েছিল, যার ফলে তাঁকে নির্বাচনে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই কি শওকতের এই পদক্ষেপ? ঋতব্রতর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই সাক্ষাৎ শাসকদলের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্বেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
কোণঠাসা মমতা-অভিষেক, তুঙ্গে অস্থিরতা
বিগত কয়েকদিনের রাজনৈতিক ডামাডোলে তৃণমূল এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। দলে নিজের অবস্থানে কোণঠাসা খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে বিদ্রোহী বিধায়করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে খোলাখুলি ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নবগঠিত সরকারের সাথে সহযোগিতার বার্তা দিয়ে অভিষেককে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করতে মরিয়া।
নতুন সমীকরণ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যেভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতার আসনে বসলেন এবং তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাড়তে শুরু করল, তা রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে দিচ্ছে। যদিও ‘নব তৃণমূল’-এর ৫৮ জন বিধায়ক এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই অভিভাবক বা পরামর্শদাতা হিসেবে চাইছেন, তবুও শওকত মোল্লার মতো দাপুটে নেতার বিরোধী দলনেতার সাথে এই বৈঠক তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সাক্ষাৎ কি ভবিষ্যতের কোনো বড় দলবদলের পূর্বাভাস? নাকি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল? তা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে চাপানউতোর।