শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কী কাণ্ড! ইউনিয়ন রুমে টাকার বান্ডিল, ছাদে ‘ম্যাসাজ পার্লার’? তোলপাড় সুরেন্দ্রনাথ কলেজ

শিক্ষা মন্দিরের অন্দরে কি তবে অপরাধের আখড়া? সুরেন্দ্রনাথ কলেজকে কেন্দ্র করে উঠে আসা একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্যজুড়ে। কলেজ ইউনিয়ন রুম থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার বান্ডিল উদ্ধারের পর, ছাদের একটি গোপন ঘর থেকে যা উদ্ধার হয়েছে, তা দেখে স্তম্ভিত পুলিশ ও স্থানীয়রা।
কী কী মিলেছে ওই গোপন ঘরে?
কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকে উইপোকা খাওয়া নষ্ট টাকার বান্ডিল উদ্ধারের পর তদন্তকারীরা যখন কলেজের ছাদের ঘরে পৌঁছান, তখন তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। সেখানে ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) বিলাসবহুল ঘর, দামি বিছানা ও নরম বালিশ। কলেজের ওই অংশে মদের বোতল, গর্ভনিরোধক প্যাকেট ও স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া গেছে। কলেজ কর্মীদের একাংশের দাবি, কলেজের ছাদে রমরমিয়ে চলত ‘ম্যাসাজ পার্লার’। শুধু তাই নয়, ইউনিয়ন রুম থেকে একটি কালো প্লাস্টিকের আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ছুটে যান বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ। প্রাক্তন শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “তৃণমূলের আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের শেষ সীমায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু এই কলেজ নয়, রাজ্যের জেলাগুলোতে খোঁজ নিলেও এমন নগ্ন চিত্রই ধরা পড়বে।”
পাল্টা সাফাই তৃণমূল নেতার
পুরো ঘটনায় গভর্নিং বডির সদস্য তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠলেও, তিনি সব দায় অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “পুরো ব্যাপারটাই সাজানো এবং প্রি-প্ল্যানড। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব হতে পারে না। আপনি যাওয়ার আগেই কেউ এসব সাজিয়ে রেখেছে।” এমনকি তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর ছেলে ওই কলেজে যায় না, বরং খেলার জগত ও হাইকোর্টের প্র্যাকটিস নিয়েই ব্যস্ত থাকে।
তদন্তের মোড়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ কীভাবে চলত এবং এর নেপথ্যে কাদের বড় চক্র সক্রিয় ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ টাকা কি কোনো বড় অপরাধের অংশ? এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।