“বাংলায় সব প্রাইভেট হাসপাতালে আয়ুষ্মান ভারত মাস্ট”-লাইসেন্স নবায়নেও কড়া শর্ত

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় আসছে বড় পরিবর্তন। রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে নতুন রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, আগামী ৮ জুন কেন্দ্রের সঙ্গে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করতে চলেছে রাজ্য।
সরকারের শীর্ষ এক আধিকারিকের ইঙ্গিত অনুযায়ী, শুধুমাত্র আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অংশগ্রহণই নয়, বরং হাসপাতালের ‘ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট’ লাইসেন্স নবায়নের অন্যতম শর্ত হিসেবেও একে জুড়ে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, যেসব হাসপাতাল এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হবে না, তাদের লাইসেন্স নবায়নে জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার পক্ষেই তারা অনড়।
স্বাস্থ্যসাথীর সাথে সমন্বয়:
রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সাথে আয়ুষ্মান ভারতকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরকদমে কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত এই দুটি প্রকল্পই পাশাপাশি চালু থাকবে। আধিকারিকদের মতে, উভয় প্রকল্পের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারেন।
হাসপাতালগুলির প্রতিক্রিয়া:
রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বেসরকারি হাসপাতাল মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বড় বড় হাসপাতাল গোষ্ঠীগুলি জানিয়েছে, তারা রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক হাসপাতালই দিল্লির মতো শহরে এই পরিষেবা দিলেও, বাংলার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নীতিগত রূপরেখা না দেখে তারা চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে নারাজ। তবে ইতিমধ্যে কিছু হাসপাতাল নিজ উদ্যোগে প্রকল্পের নিবন্ধনের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
নিবন্ধনের প্রক্রিয়া:
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হতে ইচ্ছুক হাসপাতালগুলিকে একটি বিস্তারিত আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। অনুমোদনের পর হাসপাতালগুলি একটি ইউনিক আইডি (Unique ID) পাবে। এরপর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্রের নম্বর প্রকল্পের পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ৮ জুনের সমঝোতা স্মারকের পর রাজ্যের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতে যে এক বড় ধরণের বদল আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।